পবিত্র কোরআন
থেকে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা

আল্লাহকে সেজদা করা মানেই আল্লাহকে আজিম করা

আজিম শব্দের আবিধানিক অর্থ হচ্ছে সম্মান করা। (আরবি অভিধান পৃষ্ঠা নং ১৭৭৬)। তবে একজন মানুষকে যে প্রক্রিয়ায় সম্মান করা হয়। সেই প্রক্রিয়াই আল্লাহকে সম্মান করলে সেটা যথার্থ হবে না। সেক্ষেত্রে আল্লাহর সম্মান ক্ষুন্ন হবে। সেক্ষেত্রে দেখা যায় সেজদাই হচ্ছে আল্লাহকে সম্মান করার একটা প্রক্রিয়া। কারণ সেজদার মালিক একমাত্র আল্লাহ (৭২:১৮)। কাজেই এটা সত্য যে, কেহ আল্লাহকে সেজদা করিল সে তো আল্লাহকে সম্মান করিল। অতএব যদি বলা হয় তোমার আল্লাহকে সম্মান কর, বললেই আল্লাহকে সেজদা করা বুঝাবে। কারণ সেজদা ছাড়া তো অন্য কোনভাবে আল্লাহকে সম্মান করার প্রক্রিয়া নেই। ঠিক সেইভাবে যদি বলা হয় তোমার আল্লাহর শায়েরে সম্মান প্রদর্শন কর বলতে আল্লাহর শায়েরকে সেজদার করার কথাটা এসে যায়। তাই ২২নং সুরা হজ্বের ৩২ নং আয়াতে বলা হয়েছে। শায়ের আল্লাহতে সম্মান প্রদর্শন করা তো আল্লাহর উপরে নির্ভরতার প্রমাণ। অর্থাৎ শায়ের আল্লাহকে সেজদা করা তো আল্লাহকেই সেজদা করা বোঝায়। যেহেতু যে কেহ রসূলের আনুগত্য করলো সে তো আল্লাহকেই আনুগত্য করলো (৪:৮০)। যে রসুলকে অনুসরণ করিল সে তো আল্লাহকেই ভালোবাসিল (৩:৩১) এবং রসুলের হাতে হাত রাখা আল্লাহর হাতেই হাত রাখা (৪৮:১০) [বিস্তারিত আল্লাহর শায়ের অধ্যায় দেখুন]। তাই রসুল সুরত আল্লাহ শায়ের আর আল্লাহর শায়েরে তথা রসুল সুরতে সেজদা দিলে সেই সেজদা আল্লাহকে দেওয়া হয়। তাই ২২নং সুরা হজ্বের ৩২ নং আয়াতে আল্লাহর শায়েরকে আজিম করা কথার মধ্যে আল্লাহ শায়েরকে সেজদা কর কথা নিহিত আছে ধরে নিতে হবে কারণ আল্লাহর ক্ষেত্রে আজিম ও সেজদা একই ভাষা বুঝতে হবে।

তোমরা যাহা দ্বারা আক্রান্ত হবে তাহা দ্বারা তাহা প্রতিহত কর?

আজকের ধার্মিক মানুষগণ ধর্ম বিভ্রান্তি দ্বারা আক্রান্ত তাই সঠিক ধর্মের দর্শন হচ্ছে কোরআন। আর তাই কোরআন দিয়েই ধর্ম বিভ্রান্তিকে প্রতিহত করতে হবে। তাই বিষয়ভিত্তিক কোরআনের বুঝ বা জ্ঞান সকলের মাঝে পৌছে দিলেই মানুষ ধর্ম বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি পাবে। আজকের ধার্মিক মানুষ ধর্মের বিভ্রান্তির মুখোস লেবাস দ্বারা আক্রান্ত তাই কোরআনের মাধ্যমে সঠিক লেবাস ধারণ করেই তাহা প্রতিহত করতে হবে। প্রচলিত দ্বীনের মধ্যে কোরআনের বিপরীতে যাহা প্রবেশ করেছে তাহা কোরআন দিয়ে প্রতিহত করতে হবে। অর্থাৎ প্রচলিত দ্বীনের যে কথাটি কোরআনে নেই সেটা বর্জন করতে হবে। কিংবা প্রচলিত দ্বীনের যে কথাটি কোরআন পরিপন্থিী তাহা বর্জন করে সঠিক দ্বীন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন তোমরা যাহা দ্বারা আক্রান্ত হও তাহা দ্বারা প্রতিহত কর (২:১৯৪)।

কোরআনের এক আয়াত অন্য আয়াতের পরিপন্থী নহে

আল্লাহ বলেন আমি মুসা (আ.)কে কিতাব দিয়েছি অতএব তোমরা মুসার সাক্ষাত সমন্ধে সন্দেহ করিও না (৩২:২৩)। আবার ৭নং সুরা আরাফের ১৪৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে। হে মুসা তুমি আমাকে জৌতিষ্ময় রূপে দেখতে পাবে না। এই দুই আয়াতের মাধ্যমে মানুষ দুই রকম জ্ঞান অর্জন করছে। যাহা পরস্পর বিরোধিত। কিন্তু কোরআনের কোন আয়াত তো পরস্পর বিরোধিতা নহে। তাহলে উক্ত দুই আয়াতের প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে। তাই সেটা হচ্ছে এই রকম যে প্রথমে আল্লাহ মুসার সাথে কথা বলেছিল। সেটা এইভাবে যে আল্লাহ মুসার সাথে সাক্ষাৎ দিয়ে কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করিল। আর তাই মুসার কাছে আল্লাহ প্রকাশ হওয়ায় উপায় হিসাবে আগুনের ভিতরে প্রকাশ হইল। কারণ মুসা তখন পরিবারের প্রয়োজনে আগুনের সন্ধান করতেছিল। আর মুসা যখন পাহাড়ে আগুন দেখিতে পাইল তখন মুসা তুর পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হইল তখন আল্লাহ প্রথমে আগুনের ভিতর থেকে কথা বিলল। হে মুসা তুমি জুতা খুলে আসো আমি আল্লাহ (২০:১২)। অনেকের ধারণা এই সময় মুসা এবং আল্লাহর মাঝে পর্দা চিল। যদি পর্দা থাকত তাহলে মুসা বুঝতে পারল কিভাবে যে, পর্দার ঐ পাশে আল্লাহ। কারণ ইতিপূর্বে তো মুসার সাথে আল্লাহর কোন কথা হয় নাই বিধায় আল্লাহর কণ্ঠ মুসার পরিচিত ছিল না। আর কণ্ঠ নিশ্চিত না হয়ে যদি মুসা পর্দার ঐ পারে আল্লাহকে বিশ্বাস করত তাহলে ঐ একইভাবে পর্দার অন্তরাল থেকে ইবলিশ মুসাকে ধোকা দিতে সক্ষম হয়ে যেত। যেহেতু ইবলিশ যেভাবে মুসাকে বিভ্রান্তি করতে পারবে এমন একটা প্রক্রিয়াই আল্লাহ মুসার সাথে কথা বলবে না এটা নিশ্চিত বিধায় ঐ দিন তুর পাহাড়ে মুসা এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা ছিল না এটা নিশ্চিত। আবার যদি নিঃআকারে দৈব্য বাণিতে মুসার সাথে আল্লাহ কথা বলেছিল ধরে নিলে সেক্ষেত্রে পরক্ষণে নিঃআকারে দৈব্য বাণিতে ইবলিশ কথা বলে মুসাকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চনা দিতে সক্ষম হয়ে যায়। কারণ ইবলিশ তো নিঃআকারে দৈব্য বাণীতে কথা বলতে সক্ষম। তাহলে ঐ দিন মুসার সাথে আল্লাহ নিঃআকারে দৈব্য বাণীতে কথা বলেন নাই এটা নিশ্চিত। আবার যদি আগুন আকারেই আগুনের ভিতর থেকে কথা বলে থাকে সেক্ষেত্রে পরক্ষণে ইবলিশ আগুন আকারে মুসাকে ধোকা দিতে পারে কারণ ইবলিশ তো আগুনের তৈরি (৭:১২)। কাজেই আগুনের ভিতরে আল্লাহ অন্য একটি আকৃতির ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল এটা নিশ্চিত। আবার যদি মনে করা হয় যে যেকোন একটা আকৃতি ধারণ করে কথা বলেছিল কিনা। যেহেতু ইবলিশ যেকোন জীবের আকৃতি ধারণ এমন কি মানুষের আকৃতি ধারণ করেও কথা বলতে সক্ষম। এইজন্য আল্লাহ যেকোন জীবের আকৃতির ছদ্মবেশ ধারণ করে নাই কিংবা যেকোন মানুষের আকৃতি ধারণ করে নাই এটা নিশ্চিত। আবার গাছ আকৃতি ধারণ করেও আল্লাহ কথা বলেন নাই। কারণ ইবলিশ গাছের আকৃতিও ধারণ করতে সক্ষম। আবার যদি আল্লাহ নিজের জ্যোতিষ্মা রূপ ধারণ করে কথা বলবে এমনটি হতে পারে না। কারণ আল্লাহ বলেছেন যে আল্লাহ তিন পদ্ধতি ছাড়া মানুষের সাথে তিনি কথা বলেন না। (ক) ওহীর মাধ্যমে (খ) ছদ্মবেশ ধারণ (গ) বিশেষ দূত প্রেরণের মাধ্যমে (৪২:৫১)। এই তিন পদ্ধতিতে আল্লাহ নিজের জ্যোতিষ্ময় রূপ ধারণ করে কথা বলার কথা বলা হয় নাই। কারণ আল্লাহর জ্যোতিষ্ময় অবস্থা কোন সৃষ্টিজীব সহ্য করতে সক্ষম নয় (৭:১৪৩) বিধায় ঐ দিন আল্লাহ তুর পাহাড়ে জ্যোতিষ্ময় রূপে কথা বলে নাই এটাও নিশ্চিত। যদি বলা হয় যে ইবলিশ তো আল্লাহ সম্পর্কে কোন প্রবঞ্চনা দিতে পারে না তাহলে এতো সমস্যার কথা কেন। কথাটা ঠিক নহে। কারণ ইবলিশ মানুষকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চনা দিতে সক্ষম (৩১:৩৩)। এই জন্য আল্লাহ সেদিন মুসার সাথে কথা বলার সময় তুর পাহাড়ে এমন একটি আকৃতির ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল যে আকৃতিটা ইবলিশ ধারণ করতে সক্ষম নহে। আর ইবলিশ একমাত্র আদম সেজদাকারীর সামিল হবে না (১৫:৩৩)। আর মুসা যেহেতু স্বরূপে সেজদাকারী (৭:২৯)। আর সেহেতু মুসার নিজের চেহারা ইবলিশ কখনও ধারণ করবে না। এইজন্য আল্লাহর সেদিন মুসার নিজের চেহারার ছদ্মবেশ ধারণ করেই তুর পাহাড়ে আগুনের মধ্য থেকে গাছের দিক থেকে কথা বলেছিল। প্রতিনিয়ত এইভাবে মুসার নিজের সুরতেই আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করে আসছিলেন। এমনই একদিন মুসা (আ.) বাসনা করলো যে সে আল্লাহ জ্যোতিষ্ময় রূপটা দর্শন করবে। তখন মুসা আল্লাহকে বলিল হে প্রভু তুমি আমাকে তোমার জ্যোতিষ্ময় রূপে দেখা দাও (৭:১৪৩)। আল্লাহ তখনই বলেছিল যে তুমি আমাকে জ্যোতিষ্ময় রূপে দেখতে পাবে না (৭:১৪৩) কারণ আল্লাহ জ্যোতিষ্ময় অবস্থা সৃষ্টিজগত সহ্য করতে পাবে না (৭:১৪৩)। কারণ মুসা (আ.) তার নিজ রূপের ছদ্মবেশে আল্লাহকে দেখেছিল এটা নিশ্চিত। আবার মুসা (আ.) আল্লাহকে জ্যোতিষ্ময় রূপে দেখতে চেয়েছিল বিধায় আল্লাহ মুসা (আ.)কে বলেছিল তুমি আমাকে জ্যোতিষ্ময়রূপে দেখতে পাবে না। এই কথা দিয়ে মুসা (আ.) আল্লাহকে দেখে নাই কথা প্রমাণ হয় না বিধায় (৭:১৪৩) আয়াতটি (৩২:২৩) আয়াতের পরিপন্থি নহে। এখানে আরও দুইটি আয়াতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে হয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় যে (৩৯:৬৮) আয়াত অনুসারে কিয়ামতের দিন ১ম শিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পরে সকলের মৃত্যু হবে। আবার ২য় বার শিংগায় ফুৎকার দিলে সকলেই জীবিত হয়ে প্রভুর দিকে গিয়ে দ-ায়মান হবে। তাহলে দেখা গেল এই আয়াতে মানুষের মৃত্যু হইল একবার কিন্তু (২:২৮) এবং (৪০:১১) আয়াতে দুই বার মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। যদি জন্মান্তরবাদের মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যুর মাধ্যমে ক্রমাগত কিয়ামত দিবসের দিকে মানুষ ধাবিত হচ্ছে এমন বিশ্বাস না করলে (৩৯:৬৮) আয়াতটির একবার মৃত্যু কথাটির সাথে (২:২৮) আয়াত এবং (৪০:১১) আয়াতের দুই বার মৃত্যু কথাটি পরস্পর বিরোধী হয়। যেহেতু কোরআনের কোন আয়াত পরস্পর বিরোধী নয় নিশ্চিত। তাহলে ইসলামে জন্মান্তরবাদ আছে এটা নিশ্চিত। (বিস্তারিত জন্মান্তরবাদ অধ্যায় দেখুন)।

তোমরা তোমাদের দ্বীনকে কায়েম কর

এই মর্মে আল্লাহ বলে তোমরা দ্বীন কায়েম কর দ্বীনের মধ্যে মতভেদ করিও না (৪২:১৩)। এই বিষয়ে আলোচনার পূর্বে আমাদেরকে জানতে হবে আমাদের দ্বীন সম্পর্কে আমার সঠিক দ্বীন সম্পর্কে জানতে হলে ইবলিশের দ্বীন সম্পর্কে জানতে হবে। সেক্ষেত্রে দেখা গেল ইবলিশ আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা না দিয়েই কাফের (২:৩৪) এবং সে কখনও আদম সেজদার সামিল হবে না (১৫:৩৩)। তাই যারা আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা করে না। তারা ইবলিশের অনুসারী। তার দ্বীন হচ্ছে আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা না করে ধারণা কল্পনা ও অনুমানে আল্লাহকে সেজদা করা। সেই মতে দেখা যায় বর্তমানে তাবলীগ পন্থীরা মাদ্রাসা পন্থীরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়কারীগণ অধিকাংশ মানুষ আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা করে না। অনেক তিনপন্থী পীর পন্থীগণও আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা করে না। অর্থাৎ আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা করে না এমন দলের সংখ্যা বেশি। আর কিছু লোক আছে তারা সম্যক গুরুর তথা রসুলের কাছে বায়াত গ্রহণ করে আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা করে এবং তারা জয়গুরু বলে। এদের দ্বীন হচ্ছে আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা করা। পক্ষান্তরে তাবলীগ পন্থীরা তিন পন্থী পীরগণ, মসজিদপন্থীগণ, মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষাকগণ এবং উলামাগণ এদের দ্বীন হচ্ছে আদমকাবায় সেজদা থেকে বিরত থাকা। অর্থাৎ আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা না করাই তাদের দ্বীন। তাদের দ্বীন কাযেম করার জন্য তারা টুপি ব্যবহার করে। যদি আপনিও টুপি ব্যবহার করেন তাহলে তাদের দ্বীন কায়েম করার বিষয়ে সহযোগিতা করলেন। তারা লম্বা লেবাস পরিধান করে তাদের দ্বীন কায়েম করার জন্য আর যদি আপনিও লম্বা লেবাস পরিধান করেন। তাহলে তাদের দ্বীন কায়েম করার বিষয়ে সহযোগিতা করলেন। তারা পাগড়ী ব্যবহার করেন তাদের দ্বীন কায়েম করার জন্য। আর আপনি পাগড়ী ব্যবহার করেন তাতে আপনি তাদের দ্বীন কায়েম করার ক্ষেত্রে সহায়তা করলেন। তারা চুল কর্তন করে ছোট করেন তারা তাদের দ্বীন কায়েম করার জন্য। আপনি দ্বীনের ক্ষেত্রে চুল ছোট করেন তাতে তাদের দ্বীন কায়েমে সহায়তা করলেন। তারা গোফ কর্তন করেন তাদের দ্বীন কায়েম করার স্বার্থে। আপনি গোফ কর্তন করে তাদের দ্বীন কায়েমে সহায়তা করলেন। এক কথায় তারা দ্বীনের ক্ষেত্রে যে সকল কর্ম করেন। আপনি সেই সকল কর্মগুলি করেন তাতে প্রমাণিত হয় দ্বীন কায়েম করার বিষয়ে আপনি তাদেরকে সহায়তা করলেন। সর্বপরি তাদের দ্বীনই কায়েম ইহল। অথচ আপনি আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদাকারী একজন গুরুধরা তরিকাপন্থী মানুষ। আপনার দ্বীনটা হচ্ছে আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা করা। আপনার জন্য সুরা শুরার ১৩ নং আয়াতটি পালন করা হইল না। আপনি যাহাকিছু করলেন তাতে যারা আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদার বিরোধি তাদের দ্বীনই কায়েম হইল। আপনার দ্বীন কায়েম করার বিষয়ে আপনি কোনো ভূমিকা পালন করলেন না। সেক্ষেত্রে আপনি কোরআনের (৪২:১৩) আয়াতটি পালনের জন্য কোন ভূমিকা রাখলেন না। আপনাকে দেখে কেহ এমনটি বলেন না যে আপনি একজন গুরুধরা তরিকাপন্থী মানুষ, আদমকাবায় সেজদাকারী। তাই আপনাকে তরিকার বেশ ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ তাদের দ্বীন কায়েমের জন্য আপনার উচিত হবে চুল, দাড়ি ও গোফ কর্তন না করা। তারা টুপি ব্যবহার করে আপনার উচিত হবে দ্বীনের স্বার্থে টুপি ব্যবহার না করা। তারা দ্বীনের স্বার্থে লম্বা লেবাস পরিধান করে। দ্বীনের ক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে লম্বা লেবাস পরিধান না করা। কারণ দ্বীনের ক্ষেত্রে তারা আপনার বিরোধি। দ্বীনের ক্ষেত্রে তাবলীগ পন্থীরা ও তিনপন্থী পীর পন্থীরা তাদের লেবাস দিয়ে তরিকত পন্থীদের আক্রমণ করছে। তরিকত পন্থীদের অর্থাৎ আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদাকারীদের কোন নিজস্ব বেশ না থাকায় আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদাকারীগণ তাদের বিরোধি পন্থীর বেশের মাধ্যমে তাদের দ্বীনকে কায়েম করছে। অর্থাৎ বর্তমানে গুরুবাদী ধারার লোক বেশ না থাকায় তাদের দ্বীন কায়েম হচ্ছে না। অর্থাৎ বেশ না থাকার কারণে গুরুবাদী দ্বীন কায়েম হচ্ছে না। আর গুরুবাদী ধারার বিরোধী লোকগণ তাদের টুপি লম্বা লেবাস ও গোফ, চুল কর্তন করার মাধ্যমে তারা তাদের দ্বীনকে কায়েম করছে। তাই বর্তমানে গুরুবাদী ধারার মানুষদের টুপি, লম্বা লেবাস পরিত্যাগ করে গোফ ও চুল কর্তনা না করে চুল-দাড়ি-গোফ রেখে দেওয়ার মাধ্যমে গুরুবাদী ধারার তথা আদমকাবায় সেজদায় বিরোধিগণকে প্রতিহত করা। এইমর্মে আল্লাহ বলেন তোমরা যেভাবে আক্রান্ত হও সেভাবে তাহা প্রতিহত কর (২:১৯৪) কাজেই (৪২:১৩)নং আয়াত অনুসারে আমরা যারা আদমকাবায় সেজদাকারী তারা তাদের দ্বীন কায়েম করার স্বার্থে চুল-দাড়ি-গোফ কর্তন না করে ঐগুলি রেখে দেওয়া কারণ চুল-দাড়ি-গোফ রাখা হারাম কথা কোরআনে উল্লেখ নেই। আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদার বিরোধিদের বেশ টুপি লম্বা লেবাস পরিধান করা থেকে বিরত থাকা। অর্থাৎ চুল-দাড়ি-গোফ কর্তন না করার মাধ্যমে রেসালাতের কাজ করা। আর দ্বীন কায়েম করতে হলে একমাত্র উপায় হচ্ছে চুল-দাড়ি-গোফ কর্তনা না করে ঐগুলি রেখে দিয়ে দ্বীন প্রচার করে রেসালাতের কাজ করতে হবে। দ্বীনের সমস্ত কাজ করার পরও যারা রেসালাতের কাজটি করে না, তাদের জন্য আল্লাহ বলেন যারা রেসালাতের কাজটি করল না তাদের যেন কিছুই করা হইল না (৫:৬৭)।

নবী মোহাম্মদ (সা.) স্বরূপে সেজদাকারী ছিলেন

নবী (সা.) কোরআনের সকল আয়াত মেনে চলেছেন (৬:৫০) এবং নবী (সা.) সাহাবীগণও নবী (সা.)কে অনুসরণ করেছেন (৩:৩১)। আল্লাহ বলেন প্রত্যেক সেজদায় তোমাদের চেহারাকে প্রতিষ্ঠিত কর (৭:২৯)। এই আয়াত অনুসারে প্রত্যেক সেজদার সময় নবী (সা.) তাঁর নিজের চেহারা সুরতটা প্রতিষ্ঠিত রেখে ঐ চেহারাই প্রভুর চেহারা বিশ্বাস করে সেজদা দিয়েছে এবং তিনি নিজের চেহারা সুরতে তার প্রভুকে দেখেছিল যখন তার প্রভু তার নিজ আকৃতি ধারণ করে তার দর্শন দিয়েছিল (৫৩:৬)। নবী (সা.)-এর যেহেতু দেহগতভাবে মানুষই ছিলেন (১৮:১১০) সেহেতু নবী (সা.) এর আকৃতিগত চেহারায় আদমের আকৃতিগত চেহারার অনুকরণে তৈরি। সেহেতু ফেরেস্তারা যেমনভাবে আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা দিয়েছিল (১৫:২৯) (৩৮:৭২) ঠিক তেমনই নবী (সা.) যখন তার নিজের চেহারায় প্রভুকে সেজদার সময় দৃষ্টিতে স্থির করেছিল সেহেতু তিনি মূলত আদম চেহারায় সেজদারকারীর সামিল বলে গণ্য। আর তখনই নবী (সা.)-এর সাথে ইবলিশ ঐ সেজদায় সামিল হয় নাই বিধায় তিনি ইবলিশ থেকে পবিত্র হয়েছিল। কারণ ইবলিশ তো আদম চেহারায় সেজদার সামিল হবে না (১৫:৩৩)। আর নবী (সা.) এর সাহাবীরাও প্রত্যেক সেজদার সময় নবী (সা.)এর চেহারা তাদের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করেই তাদের প্রভুকে সেজদা করেছে। কারণ প্রত্যেক সাহাবীগণই নবী (সা.)কে প্রত্যেক বিষযে অনুসরণ করেছেন (৩:৩১)। আর তাই সেজদার বিষয়ে নবী (সা.) যে চেহারাই সেজদা দিয়েছে তার সাহাবীরাও সেই চেহারাই সেজদা দিয়েছে বিধায় নবী (সা.) এর সকল সাহাবীগণ নবী (সা.) চেহারা সেজদার সময় যাজন করেছিলেন। তাই তারা মুশরিকদের দলভুক্ত ছিলেন না (৬:৭৯)। সাহাবীরাও আদমকাবায় সেজদার সামিল বলে গণ্য ছিলেন বিধায় তারাও ঐ একই প্রক্রিয়াই বা একইভাবে ইবলিশ থেকে পবিত্র হয়েছিলেন বিধায় আমাদেরকেও আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা দিয়েই ইবলিশ থেকে পবিত্র হতে হবে। এরজন্য একজন সম্যক গুরু তথা রসুল দরকার। আর সেই রসুল তোমাকে পবিত্র করবেন (২:১৫১)। এখানে উল্লেখ যে অনেকে মনে করতে পারেন যে, সেজদার সময় তোমাদের চেহারা বলতে সাহাবীরা নিজের চেহারা সেজদার সময় প্রতিষ্ঠিত করেছে কথাটা ঠিক নহে। কারণ এখানে স্বরূপে সেজদা কর বলতে যে চেহারাটা সেজদাযোগ্য স্বরূপ সেই চেহারাটাকেই বুঝানো হয়েছে। আর তাই নবী (সা.)-এর চেহারাটা সেজদাযোগ্য স্বরূপ কারণ তিনি নবী। আর প্রত্যেক নবীই প্রভুর কাছ থেকে নবুয়ত প্রাপ্ত (৩:৭৯) এবং প্রত্যেক নবীই প্রভুর কাছ থেকে রেসালাত প্রাপ্ত (৭২:২৩)। তাই প্রত্যেক নবীর চেহারাই সেজদাযোগ্য স্বরূপ। যেমন আদম (আ.) এর চেহারা আদমের ক্ষেত্রে সেজদাযোগ্য স্বরূপ কারণ আদম ছিলেন রেসালাত প্রাপ্ত (২:৩০)। কিন্তু ফেরেস্তাদের চেহারা সেজদাযোগ্য স্বরূপ নহে। কারণ ফেরেস্তারা খেলাফত প্রাপ্ত নহে। এইজন্য যাহারা রেসালাত প্রাপ্ত বা খেলাফত প্রাপ্ত নহে তাদের স্বরূপ সেজদাযোগ্য স্বরূপ নহে বিধায় সাহাবীদের স্বরূপ সেজদাযোগ্য স্বরপ নহে বিধায় প্রত্যেক সাহাবীই নবী (সা.) এর চেহারায় সেজদা সময় প্রতিষ্ঠতি করেছে।

যারা চুল-দাড়ি-গোফ কর্তন করে দুনিয়ার শোভা রক্ষা করার জন্য পরকালে তাদের জন্য শাস্তি

যেহেতু কোরআনের এক আয়াতের পরিপন্থী কোন আয়াত নেই। সেক্ষেত্রে যারা বলেন, হে প্রভু আমাকে দুনিয়ার কল্যাণ দাও। তার জন্য আখিরাতে কোন অংশ নাই (২:২০০)। আবার যারা দুনিয়ার শোভা কামনা করে তাদের দুনিয়ার কল্যাণ ও শোভা দান করা হবে কিন্তু আখিরাতে তাদের জন্য শাস্তি (১১:১৫)। যদিও তারা আখিরাতের শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে নেকি সংগ্রহ করে। তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন তাদের কর্ম নিষ্ফল হবে (১১:১৬)। কারণ তারা দুনিয়ায় শোভা চেয়েছিল তাহা তাদের দেওয়া হয়েছে। তাদের আখিরাতে শাস্তি নির্দিষ্ট হয়ে গেছে (১১:১৫) তাই আখিরাতে শাস্তি থেকে বাচার জন্য তারা যাহা কিছু করেছে তাহা নিঃস্ফল হবে (১১:১৬) কাজে আসিবে না। অনেকে দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের কল্যাণ একই সাথে কামনা করাকে কোরআন ভিত্তিক প্রমাণ করে তাদের জন্য বলতে হয় তাদের ঐ উক্তিটি সুরা বাকারার ২০০নং আয়াত এবং সুরা হুদের ১৫ নং আয়াতের পরিপন্থী হবে। যেহেতু কোরআনের এক আয়াত অন্য আয়াতের পরিপন্থী নহে বিধায় দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিয়াতের কল্যাণ একই সাথে কামানা করা কোরআন পরিপন্থী। যাহা কিতাবীদের (৫:৭৭) আয়াত অমান্য করে নিজ হাতে রচিত বিষয় তাহা পরিহারযোগ্য। তবে যারা দুনিয়ায় কল্যাণ ও আখিরাতে কল্যাণ কোনটাই চাই না। শুধু প্রভুর কাছে নিজের অপরাধ ক্ষমা প্রার্থনা করে ও কাফিরদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে থেকে আল্লাহর কাছে সাহায্য চায় তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিয়াতের কল্যাণ উভয়ই দান করিবেন (৩:১৪৭) ৩:১৪৮)। তাই যারা দুনিয়ার শোভা ও সৌন্দর্য্য রক্ষার জন্য চুল-দাড়ি-গোফ কর্তন করেন তাদের জন্য আল্লাহ আখিরাতে শাস্তি দিবেন এই জন্য যে, তাদের চুল-দাড়ি-গোফ কর্তনের উদ্দেশ্য ছিল দুনিয়ার শোভা কামনা করা। পক্ষান্তরে যারা দুনিয়ার শোভা কামনা না করে দ্বীনের স্বার্থে নিজের বেশ দিয়ে কাফিরদেরকে প্রতিহত করার জন্য চুল-দাড়ি-গোফ কর্তন করা থেকে বিরত থাকেন। তারাই কোরআন পন্থি। কারণ এইগুলি রখা হারাম কোরআনে উল্লেখ করেন নাই।

আল্লাহ নিজের সুরতে আদম তৈরি করবে বিধায় কুন্ শব্দে আদম (আ.)কে সৃষ্টি না করে মাটি দিয়ে তৈরি করে

আল্লাহ যখন কিছু সৃষ্টি করতে মনস্থির করেন, তখন সেই বিষয়ে শুধু বলেন কুন্ বা ‘হও’ তখন সেটা হয়ে যায় (১৯:৩৫)। যখন আল্লাহ মনে করেছেন যে, হাতিটা এমন হলে ভালো হয়, আর তেমনি ঐ রূপ মনে স্থির করে ‘হও’ বলার সাথে সাথে হাতির মতো হাতি হয়ে গেল। একইভাবে বিশ্বের সকলকিছুই আল্লাহ যেমন ইচ্ছা করেছেন তেমনি আকৃতিতেই সেটা সৃষ্টি করেছেন ‘হও’ বলে। কিন্তু আদম তৈরির ক্ষেত্রে আল্লাহ ইচ্ছা করলো অতি উত্তম সুরতের অনুকরণে তাকে তৈরি করবে (৯৫:৪)। যেহেতু আল্লাহর কোন আকৃতি নেই মর্মে কোরআনে কোনো আয়াত নেই। বরং আল্লাহ মানুষের সাথে কথা বলার সময় হেজাব বা ছদ্মবেশ ধারণ করেন (৪২:৫১)। যেহেতু আল্লাহ হেজাব ধারণ করেন তাতে বোঝা যায় আল্লাহ আকৃতিবিহীন নহে। কারণ যার কোন দেহ নেই তার ক্ষেত্রে কোন হিজাব ধারণ দরকার নেই। যেহেতু সুরা শুরার ৫১নং আয়াতে হিজাব ধারণের কথা উল্লেখ আছে। তাহলে বোঝা যায় আল্লাহর আকৃতি আছে। অর্থাৎ আল্লাহর একটি আকৃতি আছে। যে আকৃতি তিনি সেদিন প্রকাশ হবেন। অর্থাৎ সেইদিন আল্লাহর পা প্রকাশ করিবেন (৬৮:৪২)। আর সেদিন সকলকিছুই ধ্বংস হবে একমাত্র আল্লাহর চেহারা ব্যতিত (২৮:৮৮)। ৬ দিনে পৃথিবী তৈরি করে আল্লাহ সেই আকৃতি নিয়েই আরশে সমাসীন হলেন (৩২:৪)। আর আল্লাহ নিজ হাতেই আদমের দেহ তৈরি করেন (৩৮:৭৫)। তাহলে দেখা যায় যে, আল্লাহর আকৃতি আছে। আর সেই আকৃতিটাই ছিল অতি উত্তম আকৃতি। আর সেই অতি উত্তম আকৃতি তথা আল্লাহর নিজ আকৃতি যেমন তেমন আকৃতিতেই মানুষ তৈরি করার ইচ্ছা পোষণ করেন। যেন ইচ্ছা মতো মানবরূপে আরোহণ করতে পারে (৮২:৮) (বিশেষ দ্রষ্টব্য : আল্লাহ নিজ আকৃতিতে মানুষ তৈরি অধ্যায়টি বিস্তারিত দেখুন)। আর তাই আল্লাহ যদি মানুষ তৈরির সময় নিজের চেহারা মনের মধ্যে কল্পনা করে ‘হও’ শব্দ বলেন সেক্ষেত্রে মানুষের চেহারা অবিকল আল্লাহর মতোন হয়ে যায়। এই জন্য আল্লাহ মানুষকে বা আদমকে ‘কুন’ শব্দে তৈরি করে নাই বরং মাটি-কাদা দিয়ে তৈরি করেছেন (৩:৫৯)। যেন আল্লাহর আকৃতির অনুসরণে হয় কিন্তু যেন অবিকল আল্লাহর মতো না হয়। পৃথিবীর সকল কিছুই আল্লাহ ‘কুন’ শব্দে তৈরি করেন (১৯:৩৫)। কারণ সেইগুলির কোনোটাই আল্লাহর নিজ আকৃতিতে তৈরি নহে। একমাত্র মানুষকেই আল্লাহ নিজ সুরতে তৈরি করেছেন। এজন্য আদমকে ‘কুন’ শব্দে তৈরি না করে মাটি দিয়ে নিজ হাতে তৈরি করেছেন।

দ্বীনের ক্ষেত্রে সঠিক দল কোনটি

সঠিক দ্বীন থেকে সরে গিয়ে মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে (৩০:৩২)। বহু দলে মানুষ বিভক্ত হলেও একটি মাত্র দলই জান্নাতে যাবে। অর্থাৎ যে দলটা সঠিক সেই দলটিই জান্নাতে যাবে। আর বাতিল দলগুলির মধ্যে বিরোধ থাকবে। তাই সঠিক দলটি চেনার উপায় হচ্ছে যে দলের সাথে অন্যান্য সকল দলের বিরোধ সেই দলটিই সঠিক। দ্বীনের ক্ষেত্রে পরস্পর বিরোধী যতগুলি দল আছে সেই দলগুলিই সকলে যে দলটির সাথে বিরোধ করে মূলত সেই দলটিই সঠিক। কারণ সেই দলের মধ্যে ইবলিশ নেই, বাকি সকল দলের মধ্যেই ইবলিশ আছে। ইবলিশ নেই এমন দলের সংখ্যা একটা। যে দলের মধ্যে ইবলিশ নেই সেই দলের পরিচয় হচ্ছে তারা আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা করে। কারণ ইবলিশ আদমকাবায় সেজদায় সামিল হবে না (১৫:৩৩)। কারণ ইবলিশ আদমকে সেজদা না দিয়ে কাফের (২:৩৪)। আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা না করে তারা রসুল সুরতে আল্লহার দর্শন লাভ করে নাই। ফলে তাদের কাছে আল্লাহ অদেখা আর অদেখা বিষয়টি স্মরণযোগ্য নয় বিধায় তারা আল্লাহর স্মরণে ব্যর্থ। তাই তাদের মন মস্তিষ্কে রসুল সুরতে আল্লাহর স্মরণ থাকে না। তাহলে তারা আল্লাহর স্মরণে গাফেল থাকে এজন্য তাদের সাথে ইবলিশ সংশ্লিষ্ট থাকে (৪৩:৩৬)। তাই ইবলিশ থেকে মুক্ত হতে হলে আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা দিতে হবে। আর এই সেজদার কারণে ইবলিশ সংশ্লিষ্ট সকল দলই তাদের সাথে বিরোধ করে। তাদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা কোরআন অনুসরণ করে। কোরআনের বাইরে তারা কোনকিছু অনুসরণ করে না। তাই কোরআনে চুল-দাঁড়ি-গোঁফ রাখা হারাম উল্লেখ নেই বিধায় এরা চুল-দাঁড়ি-গোঁফ রাখে। আর এইজন্যই বাতিল সকল দলই তাদের সাথে বিরোধ করে। তাদের আরেকটি পরিচয় হচ্ছেÑ তারা প্রভুর প্রেমিক বিধায় তারা বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে কীর্তন করে প্রভুর প্রেম নিবেদন করে। এই কারণে বাতিল পন্থিরা যারা বাদ্যযন্ত্র হারাম মনে করে তাদের সাথে বিরোধ করে। সঠিক দলের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে তারা আল্লাহকে গুরু বলে কারণ আল্লাহর গুণবাচক নাম গুরু (৫৫:৪)। তারা যেহেতু নিঃস্বার্থভাবে প্রভুর ইবাদত করে তাই পরস্পরের সাথে দেখা হলে প্রভুর জয় কামনা করে বিধায় তারা জয়গুরু বলে। এই কারণে ইবলিশ সংশ্লিষ্ট সকল দল তাদের সাথে বিরোধ করে। যেহেতু একটি দল সঠিক তাই পরস্পর বিরোধী সকল দলই যে একটি দলের সাথে বিরোধ করে মূলত তারাই সঠিক। আবার অধিকাংশ লোকই তাদের সাথে বিরোধ করে। আর অধিকাংশ লোক কিন্তু আল্লাহর পথে নেই এই মর্মে আল্লাহ বলেন, যদি তুমি অধিকাংশ লোকের কথা মতো চল তাহলে ওরা তোমাকে আল্লাহর পথ হইতে বিচ্যুতি ঘটাবে (৬:১১৬)। আর অধিকাংশ লোকই আল্লাহর সাক্ষাত অস্বীকারকারী (৩০:৮)। তাই সঠিক দলের লোকসংখ্যা সবসময়ই কম থাকে।

আল্লাহ সম্পর্কে ধারাণা, কল্পনা, অনুমান গ্রহণযোগ্য নহে

আল্লাহ সত্ত্বাই প্রকৃত সত্য। আর সত্য সম্পর্কে ধারণা, কল্পনা, অনুমান মোটেও ফলপ্রসু নহে (১০:৩৬)। আর তাই আল্লাহ সম্পর্কে যখন কেউ কল্পনা করে তখন তার মস্তিষ্কে আল্লাহর একটা কাল্পনিক রূপ সৃষ্টি হয়। সেই কাল্পনিকরূপটা আল্লাহর সম্পর্কে উপমা বা মেসেল হিসাবে গণ্য হয়। কারণ আপনি আল্লাহ সম্পর্কে যেমনটা কল্পনা করেছেন আল্লাহ তো তেমনটা নহে। বরং আল্লাহ তো আল্লাহর মতো। এইজন্য আল্লাহ সম্পর্কে মুস্তিষ্কের কাল্পনিক রূপটা একটি মেসেল বা উপমা হিসেবে গণ্য হয়। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, আল্লাহ সম্পর্কে কোন মেসেল বা উপমা গ্রহণযোগ্য নহে (১৬:৭৪)। যারা প্রভুর সাক্ষাৎ দর্শন লাভ করেন নাই তাদের মনমস্তিষ্কে আল্লাহ সম্পর্কে একটি কাল্পনিক রূপ সৃষ্টি হবেই। এটা মস্তিষ্কের বৈশিষ্ট্য। এহেন অবস্থা থেকে মুক্তি উপায় উপায় হচ্ছে রসুল সুরতে প্রভুর দর্শন লাভ করা। তাই সম্যক গুরুর সঙ্গ ধারণ করে সেখানে বায়াত গ্রহণ করে আদমকাবায় সেজদা দিয়ে ইবলিশ মুক্ত হয়ে রসুল সুরতে আল্লাহ দর্শন করাই মানবমুক্তির একমাত্র উপায়।

চুল দাড়ি গোঁপ রাখা সম্যক গুরু রসুলগণের বেশ

যারা মোহাম্মদ(সঃ)কে রসুুল হিসাবে মানে। কিন্তু সম্যক গুরুগণকে রসুল বলে মানে না। তাদের বৈশিষ্ট হচ্ছে তারা চুল ও গোঁপ কর্তন করে এবং দাড়ি একমুষ্টি রাখে। তারা টুপি পাগড়ি ও লম্বা জুব¦া পরিধান করে। এরা আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করে না। এরা জয়গুরু বলে না, বাদ্যযন্ত্র বাজায় না, জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী নয় বরং এরা কবরের আযাবে বিশ্বাসী। এরা ইজমা কিয়াস ও হাদিসকে দ্বীনের দলিল হিসেবে মনে করে। পক্ষান্তরে যারা মোহাম্মদ(সঃ)কে নবী বলে বিশ্বাস করে এবং সম্যক গুরুগণকেই রসুল হিসাবে বিশ্বাস করে।এদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এরা চুল দাড়ি গোঁপ কর্তন করে না। এরা টুপি পাগড়ি ও লম্বা জুব¦া পরিধান করে না। এরা আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করে। এরা জয়গুরু বলে ও বাদ্যযন্ত্র বাজায়। এরা জন্তান্তরবাদে বিশ্বাসী, এরা কবরের আযাবে বিশ্বাসী নয় বরং মৃত্যুর পরে নতুনভাবে জীব সৃষ্টির মাধ্যমে আযাবে বিশ্বাসী (৭ঃ২৯)। এরা দ্বীনের দলিল হিসাবে একমাত্র কোরআনকেই বিশ্বাস করে। কারণ দ¦ীনের বিধান ফয়সালা যারা কোরআন মোতাবেক করে না ওরা জালিম, ফাসিক, কাফির(৫:৪৪) (৫:৪৫) (৫:৪৭)। কারন কোরআন ই দীনের পরিপূর্ণ দলিল (৫:৩)। আর আল্লাহ নবী(সঃ) কে বিধান হিসাবে দিয়েছেন এই কোরআন (২৮:৮৫)। এদের কে যখন প্রশ্ন করা হয় তোমরা গোঁপ কর্তন কর না কেন? তাঁরা বলে গোঁপ আল্লাহর দেওয়া সুন্নত আর আল্লাহ এটাকে কর্তন করতে বলে নাই কিংবা আল্লাহ গোঁপকে হারাম করে নাই। এদিকে যখন বলা হয় গোঁফ রাখা হারাম নহে, তবে এটা যে হালাল এর আয়াত কি? তখন তারা বলে যাহা কিছু হারাম করা হয়েছে তাহা ব্যতীত সকলকিছুই হালাল (৩ ঃ ৯৩)। যেহেতু গোফ রাখা হারাম আয়াত আসেনি তাহলে এই আয়াত অনুসারে উহা হালাল। গোফ আল্লাহর দেয়া সুন্নত। আল্লাহর সুন্নত পরিবর্তন করা যাবে না (১৭ ঃ ৭৭)। এদের কে যখন প্রশ্ন করা হয় তোমরা টুপি পাগড়ি ও লম্বা জুব¦া পরিধান কর না কেন? তারা বলে টুপি পাগড়ি ও লম্বা জুব¦া ইসলামি পোশাক এই কথা কোরআনে উল্লেখ্য নেই। আয়াতে এসেছে যে পোশাক পরে নির্ভরশীল হওয়া যায়, সেটাই তোমাদের জন্য উত্তম পোশাক (৭ ঃ ২৬)। সেক্ষেত্রে দেখা যায় যে, পোশাকটি শক্ত ও মজবুত সেটাই উত্তম পোশাক। তাহলে দেখা যায় প্যান্ট-শার্ট শক্ত ও মজবুত বিধায় এটা নির্ভরশীল পোশাক। এদেরকে যখন প্রশ্ন করা হয় জয়গুরু বলো কেন, উহার বলে আল্লাহই স্বয়ং নবী (সঃ)-এর জয় কামনা করেছে (৪৮ ঃ ১)। আর আল্লাহ আমাদের ভাষা শিক্ষা দেয় (৫৫ ঃ ৪)। তাই তিনি আমাদের গুরু। আবার রুসুল আমাদের কোরান ও হেকমত শিক্ষা দেয় (৩ ঃ ১৬৪) (২ঃ ১৫১)। সেক্ষেত্রে রসুল আমাদের গুরু। আর গুরু নামে আল্লাহ ও রসুলকে একাকার ও অবিচ্ছিন্নভাবে ডাকি। তাই জয়গুরু দিয়ে আমরা আল্লাহর ও রসুলের জয় বা প্রশংসা কামনা করি। তাই জয়গুরু বলি। কারণ জয়গুরু না বললে আল্লাহর সাথে রসুলকে ডাকা লাগে। সেক্ষেত্রে (৭২ ঃ ৭৮)টি ব্যর্থ হয়। তাই আমরা জয়গুরু বলি। এদেরকে যখন প্রশ্ন করা হয় তোমরা বাদ্যযন্ত্র বাজাও কেন? এরা বলে বাদ্যযন্ত্র হারাম এই মর্মে কোরানে কোনো আয়াত আসে নাই বিধায় (৩ ঃ ৯৩) আয়াত অনুসারে বাদ্যযন্ত্র হালাল। তাই আমরা প্রভুর প্রেম বিচ্ছেদের জ্বালায় অস্থির হয়ে বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে প্রভুর সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা করি। তাই বাদ্যযন্ত্র বাজাই। তাদেরকে যখন বলা হয় অধিকাংশ লোক যখন চুল দাড়ি গোঁপ রাখা পছন্দ করে না তাহলে তোমরা অধিকাংশ লোকের কথা মত চল না কেন। তারা বলে ন্যায় ও সত্যের দিক থেকে আল্লার কথাই পরিপূর্ণ (৬:১১৫)। আল্লাহ আরও বলেন যদি তোমরা অধিকাংশ লোকের কথা মত চল, তাহলে ওরা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত ঘটাবে (৬:১১৬)। আমরা তো আল্লাহর পথেই আছি আর অধিকাংশ লোক আল্লার পথে নেই। আর অধিকাংশ লোকের কথামত চললে ওরা আমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত ঘটাতে, এইজন্য আমরা অধিকাংশ লোকের কথামত চলি না। এজন্য আমরা কোরআন মাফিক চলা বলা ও আল্লার পছন্দের বেশ চুল দাড়ি গোঁপ রাখি এটাই গুরুবাদী ধারার লোকের বেশ।

মোহাম্মদ (সঃ) শেষ রসুল নহে এই মর্মে আয়াত কি

আল্লাহ নবী (সা.)কে বলেন নবীদের কাছ থেকে যে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে সেই একই অঙ্গীকার তোমার কাছ থেকেও নেওয়া হয়েছে (৩৩:৭)। দেখা যায় নবীদের কাছথেকে আল্লাহ এই অঙ্গীকার লইলেন যে, এক একজন নবী, এক একজন রসুলকে সাহায্য করবে (৩:৮১)। উদাহরণ স্বরূপ বলা ৪০জন ছাত্রের ভিতরে ২০জন ভালো ২০জন খারাপ ছাত্র। শিক্ষক ২০জন ভালো ছাত্রের কাছথেকে এই অঙ্গিকার লইলেন যে এক একজন ভালো ছাত্র এক একজন খারাপ ছাত্রকে সাহায্য করবে। ঠিক একই ভাবে (৩:৮১) আয়াতে নবীগণ যে অঙ্গীকার করেছেন ঠিক একই ভাবে (৩৩:৭) আয়াতে দেখা যায় নবী (সঃ) সেই একই অঙ্গিকার করেছেন। অতএব, এই আয়াত অনুসারে নবী (সঃ) এক জন রসুলকে সাহায্য করে গেছেন। আর সেটা এইভাবে যে আল্লাহ নবী (সঃ)কে বললেন যে তোমার প্রতি যাহা ওহী অবতীর্ণ হয়েছে তাহা পৌঁছে দাও। যদি তুমি রেসালাত পৌছে না দাও তাহলে তোমার কিছুই করা হইল না (৫:৬৭) এই আয়াত নাযিল হওয়ার পরে নবী (সঃ) হযরত আলী (রাঃ)কে রেসালত দিয়ে রসুল হিসেবে সাহায্য করে গেলেন।এইভাবে তিনি উপোরক্ত অঙ্গিকার পালন করলেন। তাহলে দেখা গেল নবী(সঃ)এর পরবর্তী রসুল হযরত আলী (রাঃ)। তাহলে এটা জানা গেল যে নবী (সঃ) শেষ রসুল নয়,তবে তিনি শেষ নবী (৩৩:৪০) এখানে উল্লেখ যে মোহাম্মদ (সঃ)শেষ রসুল এই মর্মে কোরআনে কোন আয়াত নেই। তবে হযরত আলী কিন্তু নবী নহে তিনি শুধু রসুল। এই ধরনের রসুল পূর্বেও ছিল। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমার পূর্বে আমি এমন অনেক রসুল পাঠিয়েছি যারা নবী নহে (২২:৫২)। হযরত আলী ছিলেন ওহী ব্যতীত রসুল। এই ধরনের রসুল পূর্বেও ছিল। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমার পূর্বে আমি এমন অনেক রসুল পাঠিয়েছি, যারা ছিল ওহী ব্যতীত (২১:২৫)।এদের দায়িত্ব কাল ছিল দুই নবীর মধ্যবর্তী ফাতারাতি প্রিয়ডে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন দুই নবীর মধ্যবর্তী ফাতারাতি প্রিরিয়ডে আমি রসুল পাঠাই যাতে তারা না বলতে পারে। যে আমরা কোন সতর্কারী রসুল পাইনি (৫:১৯)।এই ভাবে ধারাবাহিক ভাবে রসুল চালু আছে (২:৮৭)।এই ভাবে বিরতিহীন ভাবে রসুল চালু আছে (২৩:৪৪) তাগুত শয়তানকে বর্জন করে মানুষ যেন আল্লার ইবাদত করতে পারে এজন্য এভাবে রসুল ব্যবস্থা চালু আছে (১৬:৩৬)।

আদমকাবায় সেজদার মাধ্যমে ইবলিসের ঈমান পরীক্ষা করা হবে এবং নবী (সঃ)কে সেজদা দিয়েছে সাহাবীরা তাঁর প্রমাণ স্বরূপ আয়াত কি?

আল্লাহর ক্ষেত্রে অতীত বর্তমান ভবিষ্যত সকলই সমান। তিনি ভবিষ্যতের বিষয়টি ও অনুধাবন করতে পারেন। ঈমান পরীক্ষা না করে। ইবলিসকে দোজখে দিলে তাহলে সে এমনটি বলবে আমার ঈমান পরীক্ষা করলে আমি জান্নাতে যেতে পারতাম। কিন্তু আমার উপর জুলুম করা হয়েছে। এজন্য ইবলিসের ঈমান পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ ব্যবস্থা নিলেন (২৯ : ২)। ঈমান পরীক্ষায় ইবলিশ যদি পাশ করে যায় তাহলে তাকে দোজখে দিলে সে বলবে ঈমান পরীক্ষায় পাশ করার পরও আমাকে দোজখে দিয়ে আমার উপর আল্লাহ জুলুম করেছে। আর আল্লাহ কারো উপরে জুলুম করেন না (২ : ২৫৬)। আর যদি ঈমান পরীক্ষায় পাশ করার পর ইবলিশকে জান্নাতে দেয় তাহলে সে বলবে আমাকে ইতিপূর্বে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়াটা আমার উপর জুলুম করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে (২ : ২৫৬) আয়াতটি ব্যর্থ হয়। আল্লাহর আয়াত তো ব্যর্থ হবে না (১১ : ২০)। এই জন্যে ইবলিশের ঈমান পরীক্ষা আল্লাহ এমনভাবে করবে যেন সে ফেল করে। সেটা এইভাবে যে, জান্নাতের ভিতরে যে অবস্থানে বা যে অবয়বে ইবলিসের সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন। ইবলিসের ঈমান পরীক্ষা করার সময় হাশরের দিন আল্লাহ যদি তেমনটিভাবে অবস্থান করে সেজদা দিতে বলে তাহলে ইবলিস সেজদা দিতে সক্ষম হয়ে যায়। কারণ বেহেস্তের ভিতরে সেতো আল্লাহকে সেজদা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি আল্লাহ বেহেস্তের মধ্যে আকৃতি হীন ভাবে দৈব বাণীতে কিংবা পর্দার আড়াল থেকে কিংবা জ্যোতিষ্ময় রূপে কিংবা আল্লাহর নিজ অবয়বে ইবলিসের সাথে কথা বলে থাকে। আর সেভাবে ঈমান পরীক্ষা করা হলে ইবলিস আল্লাহকে সেজদা দিতে সক্ষম হয়ে যাবে। তাছাড়া যদি তাকে প্রশ্ন করা হয় তোমার প্রভু কে? সে বলবে আমার প্রভু আল্লাহ (১৫ : ৩৬) (৩৮ : ৬৯)। তাকে যদি প্রশ্ন করা হয় তোমার দ্বীন কি? সে বলবে আমার দ্বীন ইসলাম (৩ : ৮৩)। তাকে যদি প্রশ্ন করা হয় তুমি আল্লাহ ও আরেখরাত বিশ্বাস করো কিনা? সে বলবে আমি আল্লাহ ও আখেরাত বিশ্বাস করি (২ : ৮)। তাকে যদি প্রশ্ন তুমি আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করো কিনা। সে বলবে আমি আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করি (৫৭ : ১)। তাকে যদি প্রশ্ন তুমি আল্লাহকে সেজদা কর কিনা? সে বলবে হ্যাঁ, আমি আল্লাহকে সেজদা করি (১৩ : ১৫)। কারণ এই আয়াতে বলা আছে আসমান ও জমিনের মাঝে যাকিছু আছে সকলেই আল্লাহকে সেজদা করে। তাহলে এই আয়াত অনুসারে ইবলিশও আল্লাহকে সেজদা করে। কারণ ইবলিশ তো আসমান-জমিনের ভেতরেই অবস্থান করে। তাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, তুমি সালাত আদায় করো কিনা? সে বলবে আমি তো আমার মতো করে সালাত আদায় করি (১০৭ : ৬)। তাকে যদি প্রশ্ন করা হয় তুমি আল্লাহ ও রসুল বিশ্বাস করো কিনা? সে বলবে আমি আল্লাহ ও রসুল বিশ্বাস করি (২৪ : ৪৭)। তাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, তুমি আল্লাহ ও রসুলের আনুগত্য স্বীকার করো কিনা? সে বলবে হ্যাঁ আমি আল্লাহ ও রসুলের আনুগত্য স্বীকার করি (২৪ : ৪৭)। তাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, তুমি আল্লাহর ইবাদত করেছো কিনা? সে বলবে হ্যাঁ আমি জান্নাতে থাকা অবস্থায় অনেক ইবাদত করেছি। তাছাড়া যেহেতু আমি জিন জাতীয় (১৮ : ৫০)। আর আল্লাহ তো জিন এবং ইনসানকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যেই তৈরি করেছেন (সুরা জাসিয়া আয়াত নং-৫৬)। তাকে যদি প্রশ্ন করা তুমি দোজখ, বেহেশত ও ফেরেস্তা বিশ্বাস করো কিনা? হ্যাঁ আমি তো ইতিপূর্বে জান্নাতে ফেরেস্তাদের সাথেই ছিলাম (২ : ৩৪)। তাকে যদি নবী মোহাম্মদ (সা.)কে দেখিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তুমি এই ব্যক্তিকে চেনো কিনা? সে বলবে হ্যাঁ আমি ইতিপূর্বে নবী মোহাম্মদ (সা.)কে দেখেছি বিধায় তাকে আমি চিনি। তাকে যদি প্রশ্ন করা হয় তুমি মৃত্যু এবং কিয়ামত দিবস বিশ্বাস করো কিনা? সে বলবে হ্যাঁ, আমি কিয়ামত ও মৃত্যু বিশ্বাস করি (৩৮ : ৬৯)। উপরোক্ত প্রশ্নগুলো করে ঈমান পরীক্ষা করলে ইবলিশ পাশ করে যাবে বিধায় উপরোক্তভাবে ঈমান পরীক্ষা না করে আদমকাবায় সেজদার মাধ্যমে সেদিন ইবলিশের ঈমান পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ মানবআকৃতি ধারণ করে ইবলিশের ঈমান পরীক্ষা করার জন্য পায়ে সেজদা দিতে বলবে। সেক্ষেত্রে ইবলিস সেজদা করতে সক্ষম হবে না (৬৮ : ৪২)। তখন সে লজ্জায় পড়ে যাবে (৬৮ : ৪২)। সে এই জন্য সেদিন মানবআকৃতি বিশিষ্ট আল্লাহর পায়ে সেজদা দিতে পারবে যে, সে যখন নিরাপদ ছিল তখন তাকে আদমকাবায় সেজদা করো (৭ : ১১)। তখন সে ঐ সেজদা না করে কাফের (২ : ৩৪)। এই জন্য সেদিন ইবলিশ মানবাআকৃতি বিশিষ্ট আল্লাহর পায়ে সেজদা দিতে পারবে না (৬৮ : ৪৩)। এভাবে ইবলিস ঈমান পরীক্ষায় ফেল করবে বিধায় তাকে দোযখে দেওয়া সম্ভব হবে। এজন্য আল্লাহর ইবলিশের ইমান পরীক্ষা করার সময় মানব আকৃতি ধারণ করে পায়ে সিজদা দিতে বলবে। আর ইবলিশ তখন সেজদা দিতে পারবে না, কারণ সে তো আদমকে সেজদা করে নাই। তখন ইবলিশ এমনটিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করবে (১৬ : ১১১)। যে আমাকে যেভাবে ঈমান পরীক্ষা করা হইল সকলকে যেন একইভাবে ঈমান পরীক্ষা করা হয়। তখন ইবলিশের এই প্রশ্নের সম্মখীন হওয়ার আশঙ্কায় সকলকে একইভাবে এইভাবে পায়ে সেজদার মাধ্যমে ঈমান পরীক্ষা করা হবে। আর একই পরীক্ষাই মুমিনদেরও ঈমান পরীক্ষা করা হবে (৮ ঃ ২৫)। তখন ইবলিশ আত্মপক্ষ সমর্থনে এমনটি বলবে যে, আদমকাবায় সেজদা করে নাই এমন কাউকে যদি আল্লাহ জান্নাতে দেওয়া হয় তাহলে ইবলিশ বলবে, হয় তাকে দোজখে দাও, তা না হলে আমাকে জান্নাতে দাও। এজন্য নবী (সঃ) সাহাবারা যেন সেদিন সেজদা দিতে সক্ষম হয় তার জন্য ইউসুফ (আ.)কে সেজদা দিয়েছে তাঁর ১১ ভাই এবং পিতা মাতা (১২ : ১০০) এই আয়াত নাযিল হয়ে গেল। এই আয়াত অনুসারে ইউসুফ (আ.) সেজদা যোগ্য নবী ছিলেন সাহাবিরা এটা বিশ্বাস করলেন। আর নবীদের মধ্যে মর্যাদাগত কোনো পার্থক্য নেই (২ঃ১৩৬)। তাই নবী মোহাম্মদ (সঃ) সাহাবারা নবী (সঃ)কে সেজদা যোগ্য মনে করে তাকে সেজদা করেছিলেন। তাই যখন মানব আকৃতিবিশিষ্ট আল্লাহর পায়ে সেজদার মাধ্যমে ইমান পরীক্ষা করা হবে তখন নবী (সা.) সকল সাহাবিরা সেজদা দিতে সক্ষম হয়ে যাবে। কারণ তারা তো নবী (সা.)কে সেজদা দিয়েছেন। যেমনটিভাবে ফেরেস্তারা সেজদা দিয়েছিল আদমকে (১৫ঃ২৯) (৩৮ঃ৭২)। সেই থেকে যারা আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করে তারাই সেদিন আল্লাহর পায়ে সেজদা দিতে সক্ষম হবে আর যারা এখানে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করে নাই তারা সেদিন আল্লাহর পায়ে সেজদা দিতে পারবে না (৬৮ ঃ ৪২) (৬৮ ঃ ৪৩) বিধায় তারা নবী (সঃ) এর অনুসারী ছিল না বরং তাঁরা ইবলিসের অনুসারী বলে প্রমানিত হবে। এই জন্য আল্লাহ্ বলেন তোমরা ইবলিশের অনুসরণ করিও না। এই সেজাদ কর এবং আমার নিকটবর্তী হয়ে যাও (সুরা আলাক আয়াত নং-১৯) আবার অনেকেই বলেন এই সেজদা রহিত করা হয়েছে। তাদের কথা ঠিক নহে। কারণ যে সেজদা না দিযে ইবলিশ লা’নত প্রাপ্ত হয়। সেই সেজদা রহিত করলে ইবলিশকে লা’নত থেকে মুক্তি দেওয়া লাগে। যেহেতু ইবলিশকে লা’নত থেকে মুক্তি দেওয়া হয় নাই বিধায় আদম সেজদা রহিত হয় নাই। আবার অনেকেই বলে এই সেজদা সেরেক। তাদের কথা ঠিক নয়। এটা শেরেক হলে আল্লাহ কেন ফেরেস্তাদেরকে এই সেজদার হুকুম করে। যেহেতু আল্লাহ কখনো কাহারো শেরেকের হুকুম দেন না। কাজেই এই সেজদা তথা আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করা শেরেক নহে এটা নিশ্চিত। জীবিত অবস্থায় আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা না করে যেভাবে তারা ইবাদত-বন্দেগী করেছিল তা বিফল হবে। সেদিন তারা নিজেদের দ্বীনের মধ্যে মিথ্যা উদ্ভাবন দ্বারা প্রবঞ্চিত হবে (৩ঃ২৪)। (বিঃ দ্রঃ মানবাকৃতিতে সেজদার মাধ্যমে ঈমান পরীক্ষা করা হবে অধ্যায়ে বিস্তারিত দেখুন)

তোমার প্রভুর ঠিকানা সাব্যস্ত কর

মৃত্যুর পরে পুনঃজীবিত করে আল্লাহর ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া হবে (৬ঃ৩৬)। তাই আল্লাহ বলেন, সেই দিবস আসবে সত্য। অতএব তোমার প্রভুর একটি ঠিকানা সাব্যস্ত কর (৭৮:৩৯)। অনেকে এই আয়াতটিকে আত্মসমর্পন করা অর্থে ব্যবহার করে। কেহ কেহ এই আয়াতটিকে প্রভুর উপাসনা করা অর্থে ব্যবহার করে। কেহ কেহ এই আয়াতটি প্রভুর আনুগত্য অনুসরণ করা অর্থে ব্যবহার করে। কিন্তু দেখা যায় আত্মসমর্পণ করার জন্য অন্য একটি আয়াত আসছে (২:২০৮)। এই আয়াতে ইসলাম শব্দ এসেছে। পক্ষান্তরে (৭৮:৩৯) আয়াতে ইসলাম শব্দ আসে নাই আসছে ম্-াআবি শব্দ। তাহলে দুইটি আয়াতে দুইটি শব্দ দুইটি আয়াতের উদ্দেশ্য ও দুইটি। এখন যদি কেউ (৭৮:৩৯) আয়াতটির অর্থ আত্মসমর্পন অর্থে ব্যবহার করে সেক্ষেত্রে (৭৮:৩৯) আয়াতটির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। আর আয়াতের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করা চেষ্টা করলে তার জন্য জাহান্নাম (২২:৫১)। তাছাড়া (৭৮:৩৯) আয়াতে উল্লেখিত ম্-াআবি শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে আবাসস্থল বা ঠিকানা। এখানে উল্লেখ্য যে, (৭৮:২২) আয়াতেও ম্-াআবি শব্দ এসেছে সেক্ষেত্রে আয়াতটির অর্থ এসেছে অপরাধীদের আবাস স্থল হচ্ছে জাহান্নাম। এই আয়াতে ম্-াআবি শব্দের অর্থ আবাসস্থল বা ঠিকানা অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। ঠিক একই ভাবে (৭৮:৩৯) আয়াতের ম্-াআবি শব্দের অর্থটি ঠিকানা অর্থে ব্যবহার করতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, অনেকেই (৭৮:৩৯) আয়াতে উল্লেখিত ম্-াআবি শব্দটিকে ক্রিয়া অর্থে ব্যবহার করে। আবার (৭৮:২২) আয়াতের ম্-াআবি শব্দটি বিশেষ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর ম্-াআবি শব্দটা প্রকৃত পক্ষে বিশেষ্য। সেক্ষেত্রে যদি কেহ (৭৮:৩৯) আয়াতের উল্লেখিত ম্-াআবি শব্দটা ক্রিয়া অর্থে ব্যবহার করে তাহলে সেটা ব্যাকরণ শাস্ত্রের পরিপন্থী হবে বিধায় (৭৮:৩৯) আয়াতটিকে ক্রিয়াপদ অর্থে ব্যবহার না করে বিশেষ্য পদ অর্থে ব্যবহার করাই উত্তম। তাহলে আয়াতটির প্রকৃত অর্থ দাড়ায় তোমার প্রভুর একটি ঠিকানা সাব্যস্ত কর। আর এজন্য আল্লাহ বলেন ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস তাহলে রসুলের অনুসরন কর (৩:৩১)। আবার আল্লাহ বলেন, রসুলের কাছে বাইয়াত হওয়া তো আল্লাহর কাছে বাইয়াত হওয়া, রসুলের হাতে হাত রাখা তো আল্লাহর হাতে হাত রাখা। কারণ রসুলের হাতের উপর আল্লাহর হাত (৪৮:১০)। এখন যদি কেহ আল্লাহর ঠিকানা পেতে চাই তাহলে তাকে রসুলের ঠিকানা লাভ করতে হবে। কারণ রসূলই হচ্ছে আল্লাহর ঠিকানা। যার বর্তমান রসুল নাই তার আল্লাহর ঠিকানাও নাই। অতএব সম্যকগুরু রসুলগণকেই আল্লাহর ঠিকানা হিসেবে বিশ্বাস করে (৭৮ঃ৩৯) নং আয়াতটি পালন করতে হবে।

আদম কাবায় সেজদাই সেরাতুল মুস্তাকীম

আল্লাহ যখন ফেরেস্তাদের বললেন, আদমের নিমিত্তে সেজদা কর (৭:১১) (২:৩৪)। তখন আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করে ফেরেস্তারা সেরাতুল মুস্তাকীমের পথটা গ্রহণ করিল, কিন্তু ইবলিশ আদম কাবায় সেজদা না করে। সে সেরাতুল মুস্তাকীমের পথ থেকে বিপথগামী হল। ফলে সে কাফির হয়ে গেল (২:৩৪)। আল্লাহ তাকে জান্নাত হতে বহিষ্কার করিল (১৫:৩৪)। ইবলিশ বললো আপনি আমাকে যে পথ থেকে বিপথগামী করিলেন আমি সেই সেরাতুল মুস্তাকীমে উৎ পাতিয়া বসিয়া থাকিব ও মানুষকে এই পথ থেকে বিপথগামী করিবো (৭:১৬)। আল্লাহ বলিলেন ইহাই সেরাতুল মুস্তাকীম যা আমা পর্যন্ত পৌছে (১৫:৪১)। এখানে উল্লেখ্য যে, অনেকেই বলে সৎ পথটা সেরাতুল মুস্তাকীম, কিংবা ইবাদত বন্দেগী করা সেরাতুল মুস্তাকীম, কিংবা সত্য কথা বলা সেরাতুল মুস্তাকীম, কিংবা ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা সেরাতুল মুস্তাকীম, কিংবা রোযা, হজ্ব, কোরবানী, যাকাত ও অন্যান্য দ্বীনি কর্মগুলি মিলেই হয়তো বা সেরাতুল মুস্তাকীম। কিন্তু ইবলিশের সাথে আল্লাহর কথোপকথনের মধ্যে উপরোক্ত কথাগুলির একটিও আসে নাই। এসেছে একমাত্র আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার বিষয়টি। আর সে প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেছেন ইহাই সেরাতুল মুস্তাকীম। তাহলে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করাটাই সেরাতুল মুস্তাকীম। কারণ আদম কাবায় সেজদা না করা পর্যন্ত মানুষ ইবলিশ থেকে মুক্ত হতে পারছে না। ইবলিশ যুক্ত থাকার কারণে মানুষ পবিত্র হতে পারছে না। বিধায় তার বিশুদ্ধ অন্তকরণ হচ্ছে না অর্থ্যাৎ ছালিম হতে পারছে না। আর ছালিমে না পৌছাতে পারলে মানুষ মুখলাশীন বা বিশুদ্ধ অন্তকরণে ইবাদতে একনিষ্ট হতে পারছে না। আর সেদিন বিশুদ্ধ অন্তকরণ ব্যতিত কেহ পরিত্রাণ পাবে না (২৬ঃ৮৯)। পক্ষান্তরে যারা ঐ সেরাতুল মুস্তাকীমে আদম কাবায় সেজদা করল তখন তাদের দেহ থেকে ইবলিশ মুক্ত হল। কারণ ইবলিশ আদম সেজদার সামিল হবে না (১৫ঃ৩৪)। কারণ সে আদম কাবায় সেজদা না করেই কাফের (২ঃ৩৪)। তাই যখন মানুষ আদম কাবায় সেজদা করে তখন তার অন্তর থেকে ইবলিশ মুক্ত হয়। তখন সে বিশুদ্ধ অন্তকরণে আল্লাহ পাকের ইবাদত বন্দেগীতে একনিষ্ট হতে পারে । যখন সে মুখলাশীনে পৌছাবে তখন তার উপর শয়তান আর কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না (১৫ঃ৪০)। আর এ কারণে আল্লাহ বলিলেন ইহাই সেরাতুল মুস্তাকীম (১৫ঃ৪১)। কারণ যখন কোন মানুষ আদমকাবায় সেজদা করে তখন তার দেহমন থেকে ইবলিশ দূরীভুত হয়। তাই সে দ্বীনের সকল কর্ম সঠিকভাবে পালন করতে পারে। কারণ ইবলিশ তার উপরে কোন প্রভাব ফেলতে পারছে না। কারণ সে তো তার দেহে প্রবেশ করতে পারছে না। আল্লাহ আরও বলেন যে ব্যক্তি আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা দিয়ে এই সেরাতুল মুস্তাকীমে থাকবে তার উপর শয়তানের কোন প্রভাব থাকবে না (১৫ঃ৪২)। আর যারা এই সেরাতুল মুস্তাকীমে না এসে শয়তানের পথ অনুসরণ করবে তারা জাহান্নামী হবে (১৫ঃ৪২)।

রসুল পদ থেকে নবী পদ উচ্চ বিধায় নবীগণকে
রসুল নামে ডাকা যাবে না

কতক রসুলের উপর ওহী নাযিল হয় (৫:৬৭)। এরা হচ্ছে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন রসুল। আর এরা হচ্ছে নবী এবং রসুল। আর এক ধরণের রসূল আছে যারা ওহী ব্যতিত রসূল (২১:২৫)। এই ধরণের রসূলগণ নবী নহে (২২:৫২) এরা হচ্ছে নবীর কাছ থেকে সাহায্য (রিসালাত) প্রাপ্ত রসুল (৩:৮১)। বর্তমান সম্যক গুরুগণ হচ্ছেন নবী (সা.) এর কাছ থেকে রিসালত প্রাপ্ত হযরত আলীর মাধ্যমে রিসালাত প্রাপ্ত রসুল। অর্থাৎ রসুল দুই প্রকার। এক প্রকার রসুল হচ্ছেনÑ নবী এবং রসুল। এরা উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন রসুল। আর এক ধরনের রসুল হচ্ছেন রিসালাতপ্রাপ্ত রসুল। এরা সম্যক গুরুগণ। তাই আল্লাহ বলেন, রসুলগণের মধ্যে মর্যাদাগত পার্থক্য আছে (২ঃ২৫৩)। তাহলে দেখা গেল সম্যক গুরুগণ রসুল এটা কোরআন থেকে প্রমাণিত। এখন যদি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন রসূলগণকে অর্থাৎ নবীগণকে রসুল নামে ডাকা হয় তাহলে নবীগণকে সম্যকগুরু রসূলগণের সম পর্যায়ভুক্ত গণ্য করা হয়। সেক্ষেত্রে নবীগণের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। অর্থাৎ নবীগণকে রসুল নামে ডাকলে নবীগণের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। কারণ রসুলগণের মধ্যে মর্যাদাগত পার্থক্য আছে। (২:২৫৩)। পক্ষান্তরে নবীগণকে যদি রসুল নামে না ডেকে নবী নামে ডাকা হয় তাহলে নবীগণের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়না। কারণ নবীদের মধ্যে মর্যাদাগত কোন পার্থক্য নেই (২:১৩৬)। তাহলে দেখা যাচ্ছে নবী মুহাম্মদ (স:) যেহেতু নবী এবং রসুল (৩৩:৪০)। অতএব তাকে যখন ডাকব তখন তার মর্যাদার দিক বিবেচনা করে নবী নামে ডাকতে হবে।

নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সিলসিলাভুক্ত সম্যকগুরুগণকে
যারা রসুল হিসেবে বিশ্বাস করে না উহারা কোরানের কতক আয়াত পালনে ব্যর্থ

আল্লাহ বলেন তোমরা প্রভুর একটি ঠিকানা সাবস্ত্য কর (৭৮ঃ৩৯)। তখন নবী (সঃ) এর সাহাবীরা (৪৮ঃ১০) আয়াত অনুসারে রসুলের হাত আল্লাহর হাত বিশ্বাস করে রসুলকে আল্লাহর ঠিকানা সাবস্ত্য করল। ঠিক একই ভাবে সম্যকগুরুগণকে রসুল হিসেবে বিশ্বাস করে তারা সাহাবীদের কায়দায় সুরা আল ফাতহ ১০নং আয়াত অনুসারে সম্যকগুরু রসুলের হাত আল্লাহর হাত বিশ্বাস করে (৭৮ঃ৩৯) আয়াতটি পালন করল। কিন্তু যারা সম্যকগুরুগণকে বর্তমানে রসুল হিসেবে বিশ্বাস না করে অতীত রসুলগণকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল বিশ্বাস করে তাদের ক্ষেত্রে রসুল বর্তমানে বা ফিজিক্যালভাবে বা শারিরীকভাবে উপস্থিত নাই বিধায় তাহারা আল্লাহর ঠিকানা সাবস্ত্য করতে পারছে না। বিধায় উহারা (৭৮ঃ৩৯) আয়াতটি পালনে ব্যর্থ। উহারা যদি মুহাম্মদ (সঃ) এর মাজারকে বা অতীত রসুলগণের মাজারকে আল্লাহর ঠিকানা সাবস্ত্য করে। তাহলে সেটা কোরানের পরিপন্থী হবে। এজন্য যে কোরানের কোনো আয়াতে বলে নাই যে রসুলগণের মাজার আল্লাহর ঠিকানা। কারণ রসুলগণ মরণশীল কিন্তু আল্লাহ মরণশীল নাহ। তাই রসুলের মাজারে হাত রেখে এটা বলা যায় না যে এই মাজার আল্লাহর মাজার। অতএব কোনো অবস্থাতেই। অতীত রসুলগণের মাজারকে কিংবা মুহাম্মদ (সঃ) এর মাজারকে আল্লাহর ঠিকানা সাবস্ত্য করা যাবে না। আবার আল্লাহ বলেন যারা রসুল থেকে আল্লাহকে পৃথক করে বিচ্ছিন্ন করে বা উহারা কাফের (৪ঃ১৫০)। নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সাহাবীরা (৮ঃ১৭) আয়াত অনুসারে রসুুলের মধ্যে আল্লাহ স্বয়ং সক্রিয় আছে এই বিশ্বাস করে, আবার সুরা ক্বাফ, আয়াত নং-১৬ (৫০ঃ১৬) অনুসারে আল্লাহ মানুষের গর্দানের শাহ রগ থেকে অতি নিকটে বিধায় রসুলের মধ্যে আল্লাহর অবস্থান বিশ্বাস করে , আবার (৫৭ঃ৪) আয়াত অনুসারে আল্লাহ রসুলের সাথে আছে বিশ্বাস করে , আবার (১৭ঃ৬০) আয়াত অনুসারে আল্লাহ মানুষকে পরিবেষ্টন করে আছে এই বিশ্বাস করে , আবার (৮ঃ২৪) নং আয়াত অনুসারে মানুষ এবং তার অস্তরের কাছাকাছি আল্লাহর অবস্থান এই বিশ্বাস করে, উপরোক্ত আয়াতগুলি দ্বারা এই বিশ্বাস করল যে, রসুলের মধ্যে আল্লাহ স্বয়ং উপস্থিত আছে। অর্থাৎ রসুল হচ্ছে আল্লাহ সংশ্লিষ্ট। আর তাই নবী (সা.) এর সাহাবিরা আল্লাহ ও রসুলকে একাকার ও অবিচ্ছিন্ন ভাবে বিশ্বাস করে রসুল থেকে আল্লাহকে পৃথক না করে (৪ঃ১৫০) নং আয়াতটি তারা পালন করছে । ঠিক একই ভাবে সম্যকগুরুগণকে যারা রসুল বিশ্বাস করে তারা উপরোক্ত আয়াত অনুসারে রসুেলর মধ্যেই আল্লাহ স্বয়ং সক্রিয় ভাবে অবস্থান করছে এই বিশ্বাস করে তাদের সম্যকগুরু রসুলকে ও আল্লাহকে একাকার ও অবিচ্ছিন্ন ভাবে বিশ্বাস করে রসুল থেকে আল্লাহকে ংবঢ়ধৎধঃব না করে বা পৃথক না করে (৪ঃ১৫০) নং আয়াতটি পালন করতে পারছে । পক্ষান্তরে যারা অতীত রসুলগণ এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কেই রসুল হিসাবে বিশ্বাস করে তাদের রসুল যখন অনুপস্থিত অথচ আল্লাহতো অনুপস্থিত নহে (৭ঃ৭)। সেক্ষেত্রে অনুপস্থিত রসুল থেকে আল্লাহকে বিচ্ছিন্ন করে । কারণ তারা যখন আল্লাহকে ডাকছে তখন তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি আরস আজীমে আল্লাহর দিকে চলে যায় । আবার যখন রসুলকে ডাকছে তখন তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি রসুলের মাজার মদিনার দিকে চলে যাচ্ছে। ফলে তারা রসুল থেকে আল্লাহকে কিংবা আল্লাহ থেকে রসুলকে পৃথক করে বা বিচ্ছিন্ন করে বিধায় উক্ত (৪ঃ১৫০) আয়াতটি পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। আবার আল্লাহ বলেন আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করো (৭ঃ১১) নং আয়াত। তখন নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সাহাবীরা (৩৮ঃ৭২)এবং (১৫ঃ২৯) আয়াত অনুসারে আদমের মধ্যে আল্লাহ নিজ রুহু তথা স্বয়ং আল্লাহ উপস্থিত আছে বিশ্বাস করে আল্লাহকে সেজদা করেছিল এবং (১২ঃ১০০) নং আয়াতে ইউসুফ (আঃ) এর এগারো ভাই ও পিতা মাতা যে কায়দায় ইউসুফ (আঃ) কে সেজদাযোগ্য ভেবে ইউসুফ (আঃ) কে সেজদা করছিলো সেই অনুসারে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সাহাবীরা নবী (সঃ) কে সেজদাযোগ্যভেবে তাকে কেবলা করে আল্লাহকে সেজদা করে(৭ঃ১১) নং আয়াতটির নির্দেশ পালন করতে সক্ষম হয়েছিল। ঠিক একই ভাবে যারা সম্যকগুরু রসুলকে রসুল বিশ্বাস করে তারা (৩৮ঃ৭২),(১৫ঃ২৯) এবং (১২ঃ১০০) নং আয়াতের প্রেক্ষাপটে তাদের সম্যকগুরু রসুলগণকে কেবলা করে আল্লাহকে সেজদা করার মাধ্যমে (৭ঃ১১) নং আয়াতের হুকুমটি পালন করতে সক্ষম হচ্ছে। পক্ষান্তরে যারা অনুপস্থিত রসুলগণকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল হিসাবে করে তাদের রসুল যেহেতু ফিজিক্যাল বা স্বÑশরীরে বা শারীরিক ভাবে উপস্থিত নাই বিধায় তাদের রসুলকে কেবলা করে আল্লাহকে সেজদা দিতে সক্ষম হচ্ছে না। তাই তাদের ক্ষেত্রে (৭ঃ১১) নং আয়াতটি পালনে ব্যর্থ। আল্লাহ বলেন রসুল তোমাকে পবিত্র করবেন (২ঃ১৫১) এই আয়াত অনুসারে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সাহাবীরা নিজেকে ইবলিশ মুক্ত করার জন্য রসুলের কাছে গিয়ে এমনটি চিন্তা করল যেহেতু ইবলিশ আদম কাবায় সেজদা না দিয়ে কাফের (২ঃ৩৪)।্ ্এজন্য ইবলিশ কখনও আদম সেজদার সামিল হবে না (১৫ঃ৩৩)। তাই ইবলিশ মুক্ত হতে হলে আদম কাবায় সেজদা দেওয়া প্রয়োজন । কারণ যখন আদম কাবায় সেজদা দেওয়া হবে তখন ইবলিশ এই ভাবে দেহ থেকে বাহির হয়ে যে এই সেজদারত অবস্থায় যদি সে তার দেহের ভিতর থাকে তাহলে তো সে আদম সেজদার শামিল হয়ে যায়। এজন্য যিনি আদমের নিমিত্তে সেজদা দিবেন তখনই তার ভিতর থেকে ইবলিশ নিজেই বাহির হয়ে যাবে এবং সে তখন ইবলিশ মুক্ত হয়ে পবিত্র হবে। বিধায় তাদের রসুল মুহাম্মদ (সঃ) কে উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় কেবলা করে আল্লাহকে সেজদা দিয়ে ইবলিশ মুক্ত হয়ে পবিত্র হয়েছে। ঠিক একই ভাবে যারা সম্যকগুরুগণকে রসুল বিশ্বাস করে তারা তাদের রসুলের কাছে গিয়ে উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় সেজদার মাধ্যমে ইবশিস মুক্ত হয়ে পবিত্র হতে সক্ষম হয়েছে । পক্ষান্তরে যারা অতীত রসুলগণকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল বিশ্বাস করে, তাদের রসুল যেহেতু ফিজিক্যাল বা স্বÑ শরীরে বা শারীরিকভাবে উপস্থিত নাই । বিধায় তাদের রসুলকে কেবলা করে আল্লাহকে সেজদা দিয়ে ইবলিশ মুক্ত হয়ে পবিত্র হতে পারছেনা। বিধায় (২ঃ১৫১) এবং (৩ঃ১৬৪) নং আয়াতটি পালনে ব্যর্থ। আবার আল্লাহ বলেন তোমরা রসুলের আনুগত্য করো (২৪ঃ৫৬)। এই আয়াত অনুসারে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সাহাবীরা তাদের উপস্থিত রসুলকে আনুগত্য করলো। ঠিক একই ভাবে সম্যকগুরুগণকে যারা রসুল বিশ্বাস করে তারা তাদের উপস্থিত রসুলকে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে আনুগত্যের মাধ্যমে (২৪ঃ৫৬) নং আয়াতে নির্দেশিত রসুলের আনুগত্য পালনে সক্ষম হলো। পক্ষান্তরে যারা অতীত রসুলগণকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল হিসাবে বিশ্বাস করে তাদের রসুল যেহেতু ফিজিক্যালভাবে বা স্বÑশরীরে বা শারীরিকভাবে উপস্থিত নাই। আর অনুপস্থিত ব্যক্তির আনুগত্যে করা সম্ভব নয়। এজন্য নবীর আনুগত্যে করো এ মর্মে কোরানে কোনো আয়াত আসে নাই। তাই যাদের রসুল অনুপস্থিত তারা তাদের রসুলের আনুগত্যে করতে না পারায় (২৪ঃ৫৬) নং আয়াতে বর্ণিত রসুলের আনুগত্যে করো নির্দেশ পালনে ব্যর্থ। আবার আল্লাহ বলেন তোমরা আল্লাহ ও রসুলের আনুগত্যে করো (৩৩ঃ৩৩)। এ আয়াত অনুসারে রসুলের সাহাবীরা (৪ঃ৮০) নং আয়াতের নির্দেশ প্রক্রিয়ায় রসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যে করতে সক্ষম হল। ঠিক একই ভাবে সম্যকগুরুগণকে যারা রসুল বিশ্বাস করে তারা তাদের রসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে (৪ঃ৮০) নং আয়াতের নির্দেশ মোতাবেক আল্লাহর আনুগত্যে করে (৩৩ঃ৩৩) আয়াতটি পালন করতে সক্ষম হচ্ছে। পক্ষান্তরে যারা অতীত রসুলগণকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল বিশ্বাস করে তাদের রসুল যেহেতু ফিজিক্যাল বা স্ব-শরীরে বা শারীরিকভাবে উপস্থিত নাই । আর অনুপস্থিত ব্যক্তির আনুগত্য করা সম্ভব নয়। বিধায় (৪ঃ৮০) নং আয়াতের অনুসারে রসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করতে সক্ষম হচ্ছে না বিধায় তারা (৩৩ঃ৩৩) নং আয়াতটি পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। আয়াতে এসেছে সেদিন তারা নিজের হস্তে দংশন করে বলবে হায় আমি যদি রসুলের সঙ্গ ধারণ করতাম (২৫ঃ২৭) এ আয়াতটি যখন নাযিল হয় তখন নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সাহাবীরা সতর্ক হয়ে তাদের রসুল মুহাম্মদ (সঃ) কে সঙ্গ ধারণ করল। ঠিক একই ভাবে তাদের সম্যকগুরু রসুলকে রসুল বিশ্বাস করে রসুলের সাথে সঙ্গ ধারণ করতে পারিল। পক্ষান্তরে যারা অতীত রসুলকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল বিশ্বাস করে তাদের রসুল যেহেতু ফিজিক্যাল ভাবে বা স্বÑশরীরে বা শারীরিক ভাবে উপস্থিত নাই। বিধায় তারা রসুলের সঙ্গ ধারণ করতে ব্যর্থ। তাই উক্ত (২৫ঃ২৭) নং আয়াতটি পালনে তারা সক্ষম হচ্ছে না। রসুলের কাছে বাইয়াত গ্রহণের আয়াত আসছে (৪৮ঃ১০),(৪৮ঃ১৮)। এ আয়াত অনুসারে মুহাম্মদ (সঃ) এর সাহাবীরা রসুলের কাছে বাইয়াত হল। ঠিক একই ভাবে যারা সম্যকগুরুগণকে রসুল বিশ্বাস করে তারা রসুলের কাছে বাইয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বাইয়াত হওয়ার সুয়োগ পেল। রসুলের হাতে হাত রাখার মাধ্যমে আল্লাহর হাতে হাত রাখার সুয়োগ পেল। পক্ষান্তরে যারা অতীত রসুলগণকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল বিশ্বাস করে তাদের রসুল যেহেতু ফিজিক্যাল ভাবে বা স্বÑশরীরে বা শারীরিক ভাবে উপস্থিত নাই । বিধায় তারা রসুলের হাতে বাইয়াত হতে না পেরে উক্ত (৪৮ঃ১০),(৪৮ঃ১৮) আয়াত দুইটির উদ্দেশ্য পালনে ব্যর্থ। বর্তমানে যারা আল্লাহর সাথে অতীত রসুলের নাম জপনা করে বা ডাকে তারা (৭২ঃ১৮) আয়াতটি অমান্য করে। কারণ এ আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহর সাথে কাউকে ডেকো না। এখানে উল্লেখ্য যে রসুলকে বাদে যে শুধু আল্লাহকে প্রভু বলে সে ইবলিশের অনুসারী। কারণ ইবলিশ আল্লাহকে প্রভু বলে (১৫ঃ৩৬), (৩৮ঃ৬৯)। কাজেই রসুলকে বাদ দিয়ে কোনো অবস্থায় আল্লাহকে ডাকা যাবে না। তাহলে দেখা গেল রসুলকে কোন অবস্থায় বাদ দেয়া যাবে না। আবার আল্লাহর সাথে রসুলকে ডাকা যাবে না। আবার আল্লাহকে বাদে শুধু রসুলকেও ডাকা যাবে না। কারণ আয়াত এসেছে তোমরা আল্লাহকে বাদে কাউকেও ডাকা যাবে না (১০ঃ১০৬)। এ সমস্যা সমাধানের প্রেক্ষাপটে নবী (সঃ) এর সাহাবীরা (৪৮ঃ১০) নং আয়াতের প্রেক্ষিতে রসুলের হাত আল্লাহর হাত মোতাবেক, রসুলের পা আল্লাহর পা, রসুলের চেহারা বা সুরত আল্লাহর চেহারা বিশ্বাস করে। রসুল সুরতে তারা স্বপ্নে আল্লাহ দর্শন করছে। তাই তারা রসুলসুরতে রসুলকে ডাকে নাই বরং তারা রসুল সুরতে আল্লাহকে ডেকেছে বিধায় তারা (৭২ঃ১৮) আয়াতের পরিপন্থী কাজ করে নাই। ঠিক একই ভাবে যারা সম্যকগুরুগণকে রসুল বিশ্বাস করে তারা তাদের রসূল সুরতে আল্লাহকে বিশ্বাস করে আল্লাহকে ডাকে। তারা আল্লাহর সাথে রসুলের নাম জাপনা করে না বরং তারা আল্লাহ ও রসুলকে একাকার ও অবিচ্ছিন্ন ভাবে ডাকার উদ্দেশ্য আল্লাাহর ও রসুলের কমন গুণবাচক গুরু নামে ডাকে তাই তারা জয়গুরু বলে। এখানে উল্লেখ্য যে আল্লাহর গুণবাজক নাম গুরু (৫৫ঃ৪) ও রসুলের গুণবাচক নাম গুরু (২ঃ১৫১),(৩ঃ১৬৪) ফলে তাদের দ্বীনের দৃষ্টি ভঙ্গি দুই দিকে যাই না। বিধায় তারা রসুলকে বাদও দেয় নাই আবার আল্লাহর সাথে ডাকেও না। তাই তাদের ক্ষেত্রে (৭২ঃ১৮) নং আয়াতের পরিপস্থি হয় নাই। আবার আল্লাহ বলেন দ্বীনের সকল বিষয় আল্লাহ পাবেন (৩৯ঃ৩)। এ আয়াত অনুসারে দ্বীনের দৃষ্টি ভঙ্গি দুই দিকে গেলে শেরেক । আবার দ্বীনের ক্ষেত্রে রসুলকে বাদ দিলেও কাফের। সেক্ষেত্রে নবী (সঃ) এর সাহারীরা (৪৮ঃ১০) আয়াতের অনুসারে পূর্বে বর্ণিত উপায়ে আল্লাহ ও রসুলকে একাকার ও অবিচ্ছিন্ন ভাবে রসুল সুরতে আল্লাহ বিশ্বাস করে দ্বীনের সকল কর্ম করেছে। সেক্ষেত্রে তাদের দ্বীনের দৃষ্টি ভঙ্গি এক আল্লাহর দিকেই ছিল। বিধায় (৩৯ঃ৩) নং আয়াতটি পালনে সক্ষম হয়েছে। ঠিক একই ভাবে যারা সম্যকগুরু গণকে রসূল বিশ্বাস করে আল্লাহ ও রসুলকে একাকার ও অবিচ্ছিন্ন ভাবে রসুল সুরতে আল্লাহ বিশ্বাস করে দ্বীনের সকল কর্ম করে। বিধায় তারা (৩৯ঃ৩) নং আয়াতটি পালন করতে সক্ষম হচ্ছে। পক্ষান্তরে যারা অতীত রসুলগণকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল বিশ্বাস করে তাদের রসুল ফিজিক্যালভাবে বা স্বÑশরীরে বা শারীরিক ভাবে অনুপস্থিত বিধায় তারা আল্লাহ ও রসুলকে একাকার ও অবিচ্ছিন্ন ভাবে চিন্তা করে বা অনুশীলন করে বা যাজন করে দ্বীনের সকল কর্ম করতে না পেরে তারা (৩৯ঃ৩) নং আয়াতটি পালনে ব্যর্থ হয়। আয়াতে এসেছে তোমরা আল্লাহ বিশ্বাস করো , রসুল বিশ্বাস করো , তিন বলিও না (৪ঃ১৭১)। এ আয়াতে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সাহাবীরা উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় রসুল সুরতে আল্লাহ বিশ্বাস করে আল্লাহ ও রসুলকে একত্ববাদে নিয়ে এনেছে বিধায় তারা তিন পন্থীতে গণ্য হয় নাই। ঠিক একই ভাবে যারা সম্যকগুরুগণকেই রসুল বিশ্বাস করেছে তারাও তাদের রসুল সুরতে আল্লাহকে বিশ্বাস করে দ্বীনের দৃষ্টি ভঙ্গি এক দিক দিয়ে তিন পন্থীতে গণ্য হয় নাই। পক্ষান্তরে যারা অনুপস্থিত রসুলকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল বিশ্বাস করে সেই সাথে রসুল নহে এমন ব্যক্তিকে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করে। সেক্ষেত্রে তাদের দ্বীনের দৃষ্টি ভঙ্গি তিন দিকে চলে যায় এভাবে যে যখন তারা আল্লাহকে ডাকে তখন তার দৃষ্টি ভঙ্গি আল্লাহর দিকে যাই। আবার যখন রসুলকে ডাকে তখন দ্বীনের দৃষ্টি ভঙ্গি রসুলের দিকে কিংবা রসুলের ম্াজারের দিকে যাই। আবার যখন ইমাম সাহেবদের কিংবা আলেম ওলামাদের কিংবা তাবলীগের আমীর সাহেবগণকে কিংবা ওলিলামোরগণকে কিংবা নায়েবে রসুল নামে খ্যাত পীর সাবেগণকে রসুলের বিকল্প হিসেবে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করে। যেহেতু ইমাম সাহেবগণ নিজেকে রসুল বলে ব্যক্ত করে না। সেক্ষেত্রে উক্ত ইমামসাহেবের আনুগত্য করা রসুল ব্যতীত দ্¦ীনের ক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যক্তির আনুগত্য হিসেবে গণ্য হয়। বিধায় দ্বীনের দৃষ্টি ভঙ্গি তিন দিকে চলে যায় ফলে (৪ঃ১৭১) নং আয়াতটি পালনে ব্যর্থ হয়। ঠিক একই ভাবে আলেমওলামাগণ কিংবা তাবলীগের আমীর সাহেবগণ কিংবা ওলিলামোরগণ কিংবা নায়েবে রসুল খ্যাত পীর সাহেবগণ যেহেতু নিজেদেরকে রসুল বলে দাবী করে না। বিধায় দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করা দ্বীনের দৃষ্টি ভঙ্গি তিন দিকে যাওয়ায় (৪ঃ১৭১) নং আয়াতটি ব্যর্থ হওয়ার কারণে শেরেকগণ্য হচ্ছে। আল্লাহ বলেন শেরেক সবচেয়ে বড় জুলুম (৩১ঃ১৩) । আল্লাহ বলেন তোমাদের ইমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করো না (৬ঃ৮২) । আল্লাহ বলেন শেরেক করলে কর্মফল বিনষ্ট হয় (৩৯ঃ৬৫)। আল্লাহ বলেন শেরেকের অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য (৪ঃ৪৮)। আল্লাহ বলেন আল্লাহর স্বরণে সালাত কায়েম কর (২০ঃ১৪)। এ আয়াত অনুসারে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সাহাবীরা (৪৮ঃ১০) নং আয়াত অনুসারে পূর্বে উল্লেখিত প্রক্রিয়ায় রসুল রূপে আল্লাহ বিশ্বাস করে স্বপ্নে রসুল সুরতে আল্লাহ দর্শন করেছে। আর সালাতের সময় রসুল সুরতে আল্লাহ স্বরণের মাধ্যমে সালাত কায়েম করে (২০ঃ১৪) নং আয়াতটি পালন করতে সক্ষম হয়েছে। ঠিক একই ভাবে যারা সম্যকগুরুকে রসুল বিশ্বাস করেছে তারা (৪৮ঃ১০) নং আয়াত অনুসারে পূর্বে উল্লেখিত প্রক্রিয়ায় রসুল সুরতে আল্লাহ বিশ্বাস করে স্বপ্নের মাধ্যমে রসুল সুরতে স্বয়ং আল্লাহকে দর্শন করে বিধায় সাহাবীদের কায়দায় তারা রসুল সুরতে আল্লাহ স্বরণের মাধ্যমে সালাত কায়েম করে (২০ঃ১৪) নং আয়াতটি পালনে সক্ষম হয়েছে । পক্ষান্তরে যারা অতীত রসুলগণকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল বিশ্বাস করে সেক্ষেত্রে তাদের রসুল ফিজিক্যাল ভাবে বা স্বÑশরীরে বা শারীরিক ভাবে অনুপস্থিত থাকায় রসুল দর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় আল্লাহ দর্শনেও ব্যর্থ। যেহেতু অদেখা বস্তু স্বরণযোগ্য নয় বিধায় তারা আল্লাহকে স্বরণ করতে না পেরে আল্লাহ স্বরণে সালাত কায়েমে ব্যর্থ হওয়ায় (২০ঃ১৪) নং আয়াতটি পালনে ব্যর্থ হয়। ফলে সালাতের ভিতরে তারা বিষয়রাশির কল্পনা সেজদার সময় মস্তিষ্কে এনে সেজদা করে শেরেক করে। ঠিক একই ভাবে আল্লাহ স্বরণে ব্যর্থ হয়ে সালাতের সময় কিংবা হজের সময় কাবা ঘরের স্মৃতি মস্তিষ্কে কল্পনা করে সেজদা দিয়ে ও শেরেকগণ্য হয়। কারণ সেজদার লক্ষ্য বস্তু কাবা ঘর না। সেজদার লক্ষ্য একমাত্র আল্লাহ (৭২ঃ১৮)। ঠিক একই ভাবে আল্লাহ স্বরণে যারা ব্যর্থ হয়ে আল্লাহকে ধারণা, কল্পনা ও অনুমান করে মস্তিষ্কে আল্লাহর কাল্পনিক রূপ এনে সেজদা দিয়েও শেরেক গণ্য হচ্ছে। কারণ তারা আল্লাহকে যেমনটা কল্পনা করছো আল্লাহ তেমনটা নয় বরং আল্লাহ আল্লাহর মতো। সেক্ষেত্রে আল্লাহ সম্পর্কে কাল্পনিক রুপটি মস্তিষ্কের মধ্যে আল্লাহর একটি উপমা সৃষ্টি করে । সেক্ষেত্রে (১৬ঃ৭৪) নং আয়াতের পরিপন্থী হয়ে যায়। কারণ ্এ আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ সম্পর্কে কোনো মেসেল বা উপমা দেওয়া যাবে না । ্এজন্য আল্লাহ বলেন আল্লাহ সম্পর্কে তথা সত্য সম্পর্কে ধারণ্ া, কল্পনা ও অনুমান গ্রহণযোগ্য নয় (১০ঃ৩৬)। আবার আল্লাহ বলেন সেই প্রবঞ্চক শয়তান আমাকে আল্লাহ সম্পর্কে যেন প্রবঞ্চিত করতে না পারে (৩১ঃ৩৩)। এখানে উল্লেখ্য যে অনেকেই ্এমন মনে করে বা বলে যে স্বপ্নে নবীর সুরত দর্শন করার উপায় আছে । তাদের কথাটা ভুল কারণ যিনি নবীকে দেখে নাই। স্বপ্নে নবী দেখতে গেলে শয়তান দ্বার্ াপ্রবঞ্চিত হবে। কারণ শয়তান যখন স্বপ্নে এসে নিজেকে নবী বলে পরিচয় দেবে তখন এই ব্যক্তি শয়তানকে সনাক্ত করতে ব্যর্থ হবে কারণ সে তো পূর্বে নবী (সঃ) কে দেখে নাই। তাই শয়তান নবীর প্রকৃত সুরত চেহারা না ধরে। অন্য একটি চেহারা ধরে নিজেকে নবী বলে পরিচয় দিয়ে নবী সম্পর্কে এই ব্যক্তিকে প্রবঞ্চিত করেছে। কারণ শয়তান আল্লাহ সম্পর্কে মানুষকে প্রবঞ্চিত করতে সক্ষম (৩১ঃ৩৩)। যেহেুত শয়তান মানুষকে আল্লাহর সম্পর্কে প্রবঞ্চিত করতে সক্ষম, সেহেতু সে নবী সম্পর্কেও মানুষকে প্রবঞ্চিত করতে সক্ষম বিধায় রসুলকে দেখার মাধ্যমে রসুল সুরতে সেজদা দিয়ে সেই রসুল সুরতে স্বপ্নে আল্লাহকে দেখার বিষয়টি নিহিত রয়েছে। এজন্য বাস্তবে রসুল না দর্শন করে স্বপ্নে রসুল সুরতে আল্লাহ দর্শন করতে গেলে শয়তান দ্বারা প্রবঞ্চিত হওয়ার সম্ভবনা আছে। এজন্য রসুল ব্যবস্থাকে সার্বক্ষণিক রাখা হয়েছে। যাতে শয়তানকে বর্জন করে মানুষ আল্লাহর ইবাদত করতে পারে (১৬ঃ৩৬)। যারা সম্যকগুরুকে রসুল বিশ্বাস করে নাই তারা স্বপ্নের মাধ্যমে রসুল সুরতে আল্লাহ দর্শন করতে ব্যর্থ বিধায় (৩১ঃ৩৩) নং আয়াত মোতাবেক শয়তানের প্রবঞ্চনা হতে নিজেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ। আয়াতে এসেছে হজ্বের জন্য যোগ্যব্যক্তিদের জন্য হজ্ব ফরয (৩ঃ৯৭)। যিনি মোমেন নহে, তিনি হজ্বের জন্য যোগ্য নহে। আর যিনি রসুল সুরতে আল্লাহ দর্শন করে নাই তিনি মোমেন নহে । কারণ তিনিই নিশ্চিত মোমেন যে, যিনি আল্লাহ দর্শন করেছেন (১১ঃ২৯)। সেক্ষেত্রে রসুল (সঃ) এর সাহাবীরা (৪৮ঃ১০) নং আয়াত অনুসারে পূর্বে উল্লেখিত প্রক্রিয়ায় রসুল সুরতে আল্লাহ দর্শন করে মোমেনত্ত্ব লাভ করে হজ্বের জন্য যোগ্য হয়ে (৩ঃ৯৭) আয়াতটি পালনে সক্ষম হয়েছে। ঠিক একই ভাবে সম্যকগুরুকে যারা রসুল বিশ্বাস করেছে তারা (৪৮ঃ১০) নং অনুসারে পূর্বে উল্লেখিত প্রক্রিয়ায় রসুল সুরতে স্বপ্নে আল্লাহ দর্শন করে মোমেনত্ত্ব লাভ করেছে। বিধায় তারা হজের জন্য যোগ্য হয়ে (৩ঃ৯৭) নং আয়াতটি পালনে সমর্থ হয়েছে। পক্ষান্তরে যারা অনুপস্থিত রসুলগণ এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল বিশ্বাস করে যেহেতু তাদের রসুল ফিজিক্যালভাবে বা স্বÑশরীরে বা শারীরিকভাবে অনুপস্থিত বিধায় তারা রসুলকে দর্শন করে নাই। যখন তারা হজ্বের উদ্দেশ্য কাবা ঘরে যায় তখন তাদের মন মস্তিষ্ক কাবা ঘরের স্মৃতি স্থির করে যেহেতু সেজদার লক্ষ্য বস্তু কাবা ঘর নহে। কারণ কাবা ঘরকে সেজদা কর কিংবা আল্লাহর ঘরকে সেজদা করো কিংবা মাকামে ইব্রাহীমকে সেজদা করো এমন আয়াত কোরানে আসে নাই। বরং আয়াত এসেছে আত্তাÑ খাজুমিন মাকামে ইব্রাহীম মুউচ্ছাললী অর্থ্যাৎ মাকামে ইব্রাহীমকে উচ্ছাললী আদায় করার স্থান সাবস্ত্য করো (২ঃ১২৫)। সেক্ষেত্রে যারা কাবা ঘরে গিয়ে কাবা ঘরকে সেজদার লক্ষ্য স্থির করে সেজদা করে। সেক্ষেত্রে শেরেকগণ্য হয়। আর যারা শেরেক করে তারা তো মোশরেক আর আল্লাহ মোশরেকদেরকে কাবা ঘরে হজে যেতে নিষেধ করছে (৯ঃ২৮)। কারণ মোশরেকদের দায় ভার আল্লাহ নেবে না, রসুলও নেবেন না (৯ঃ৩)। অতএব উপরোক্ত আলোচনায় এটা প্রমাণিত হয় যে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সিলসিলাভুক্ত সম্যকগুরুগণকে যারা রসুল হিসেবে বিশ্বাস না করে অতীত রসুলগণকে এমনকি মুহাম্মদ (সঃ) কে রসুল বিশ্বাস করার পরেও উপরোক্ত আয়াতগুলি পালনে ব্যর্থ হয়। আল্লাহ বলেন যারা আল্লাহর কোনো আয়াতের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি জাহান্নামী (২২ঃ৫১)।

নবী পদ হচ্ছে রসূল পদ অপেক্ষা উচ্চ পদ

নবী ও রসূল দুইটি পদ। তন্মধ্যে নবী পদ হচ্ছে উচ্চ পদ। কারণ আয়াতে আসছে নবীগণ সাহায্য করবে রসূলগণকে (৩:৮১)। অর্থাৎ এই আয়াতে প্রমাণ হয় নবী ও রসূল কোন কোন ক্ষেত্রে দুইটি ব্যাক্তি। সেক্ষেত্রে নবী ব্যক্তিটি রসূল ব্যক্তিকে সাহায্য করছে। তাহলে রসূল নিজে নবীর সাহায্য ছাড়া অসম্পূর্ণ থাকে। তাই নবী পদটি রসূল পদ অপেক্ষা উচ্চ পদ। আবার রসূলের আনুগত্য করলে নবীর সঙ্গী হবে। (৪:৬৯)। এই আয়াতেও দেখা যায় নবী ও রসূল দুইটি ব্যাক্তি। সেক্ষেত্রে রসূলগণ নবীর নিকট আপনাকে নিয়ে যাযে। যেমন এম. পি সাহেব আপনাকে নিয়ে যাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। কারণ আপনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে পারছেন না। তাই এম.পি পদ অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রী উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি। তদরূপ রসূল আপনাকে নবীর কাছে নিয়ে যাবে, আপনি সরাসরি নবীকে পাবেন না। আবার নবী হচ্ছেন ঐশী বাণী প্রাপ্ত ব্যক্তি (৩ঃ৭৯) যার ইংরেজি হচ্ছে চৎড়ভবঃ। আর রসুলের কাজ শুধু প্রচার করা (৫ঃ৯৯)। এই জন্যে রসুলের ইংরেজি হচ্ছে গধংংবহমবৎ। অর্থাৎ যিনি ঐশী বাণী প্রাপ্ত হন তিনিই নবী আর যিনি তা প্রচার করেন তিনিই রসুল। তবে রসুলদের মধ্যে মর্যাদাগত পার্থক্য আছে (২ঃ২৫৩)। কারণ অনেক রসুল আছে যারা নবী এবং রসুল। এই সমস্ত রসুলগণ উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন রসুল। আর কিছু রসুল আছে শুধু রসুল, তারা নবী নহে। তাদের কাজ হচ্ছে শুধু কোরান প্রচার করা। তাহলে দেখা যায় নবী পদটি রসূল পদ অপেক্ষা মর্যাদার দিক থেকে উচ্চ পদ। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে নবী ও রসূল একই ব্যক্তি হতে পারে। যেমন মুহাম্মদ (স:) নবী এবং রসূল, মূসা (আ:) নবী এবং রসূল। ঈসা (আ:) নবী এবং রসূল। তাঁদেরকে যখন ডাকবেন তখন মর্যাদার দিক থেকে চিন্তা করে নবী পদেই ডাকতে হবে। সেক্ষেত্রে বলতে হবে, মুহাম্মদ (স:) আল্লাহর নবী। তদরূপ মূসা (আ:) আল্লাহর নবী। তদরূপ সকল নবীগণকেই নবী নামে ডাকতে হবে। কারণ নবীদের ভিতরে কোন পার্থক্য নাই (২:১৩৬)। তাই সকল নবীগণকে যখন ডাকবো তখন নবী পদের মর্যাদা রক্ষার্থে তাদেরকে নবী বলেই ডাকতে হবে। যদি কেহ এমনটি না করে তাহলে তারা নবীগণের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হবে।

আল্লাহর সাথে কাউকে ডাকা যাবে না।

দ্বীনের ক্ষেত্রে সকল কিছুই আল্লাহ পাবে (৩৯:৩)। এইজন্য আল্লাহ বলেন সকল সেজদা আল্লাহর উদ্দেশ্যে (৭২:১৮)। যেখানেই সেজদা করা হোক না কেন নিয়ত করতে হবে আমি স্বয়ং আল্লাহকেই সেজদা করছি। যেমন কাবা ঘরকে বা ঈদগাহকে সামনে রেখে নিয়ত করছি আমি আল্লাহকে সেজদা করছি। এতে প্রমাণ হয় সেজদার সময় নিয়ত করার সুযোগ আছে। বা সেজদার সময় নিয়তের ফাঁক আছে। তাই কাবা ঘরকে কেবলা করে আল্লাহকে সেজদা করার সুযোগ আছে। যেমন আদমকে কেবলা করে ফেরেস্তারা আল্লাহকে সেজদা করল (৩৮:৭২)। এতে প্রমাণ হয় সেজদার সময় নিয়ত করার সুযোগ আছে। ঠিক একই ভাবে আনুগত্য করার সময় নিয়তের ফাঁক থেকে যায়। অর্থাৎ আনুগত্য করার সময় নিয়তের সুযোগ আছে। তাই আল্লাহ বলেন, তোমরা রসূলের আনুগত্য কর। এই আয়াত অনুসারে রসূলের আনুগত্য করার সময় আমার নিয়ত থাকবে যে আমি রসূলের আনুগত্যের মাধ্যমে স্বয়ং আল্লাহর আনুগত্য করছি। (৪:৮০)। এতে প্রমাণ হয় আনুগত্য করার মধ্যে নিয়ত করার সুযোগ আছে। ঠিক একই ভাবে অনুসরণ করার ভিতরে নিয়ত করার সুযোগ আছে। আর আল্লাহর বলেন, যদি তোমরা আল্লাহরকে ভালবাস তবে রসূলের অনুসরণ কর (৩:৩১)। এই আয়াতটি পালন করার সময় আপনার নিয়তটি হবে এমন যে, আমি রসূলের অনুসরণের মাধ্যমে স্বয়ং আল্লাহকে অনুসরণ করছি। এতে প্রমাণ হয় যে, অনুসরণ করার মধ্যেও নিয়ত করার সুযোগ আছে। কিন্তু নাম জপনা করার মধ্যে বা নাম ডাকার মধ্যে নিয়তের কোন সুযোগ নাই। সেক্ষেত্রে এটা বলা যাবে না যে, আমি রসূলের নাম ডাকার মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকছি। কারণ নাম ডাকার ক্ষেত্রে উচ্চারণ এসে যায়। আর যখনই রসূলের নাম উচ্চারণ করবেন তখনই ঐ নাম ডাকাটা রসূলের খতিয়ানভুক্ত হবে। আর ঐ নাম ডাকাটা রসূলের খতিয়ানভুক্ত হইলে এটা নিয়তের মাধ্যমে আল্লাহর খতিয়ানভুক্ত করতে পারছেন না। কারণ নাম ডাকার ক্ষেত্রে নিয়তের কোন সুযোগ নাই। সেইজন্য আল্লাহ এমনটা বলে নাই যে, দ্বীনের ক্ষেত্রে তোমরা রসূলের নাম জপনা কর। কিংবা এমনটিও বলে নাই যে, তোমরা রসূলের নাম জপনা করলে ঐ নাম জপনা আল্লাহর হবে। এমন কোন আয়াত পবিত্র কোরআনে নেই। যেহেতু নাম জপনা করার মধ্যে নিয়তের সুযোগ নাই, সেক্ষেত্রে রসূলের নাম জপনাটা রসূলের খতিয়ানেই থেকে যাচ্ছে। সেটা নিয়তের মাধ্যমে আল্লাহর খতিয়ানভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছেনা। সেক্ষেত্রে বিষয়টি সূরা জুমার ৩ নং আয়াতের পরিপন্থী হচ্ছে। কারণ এই আয়াতে আল্লাহ বলেন, দ্বীনের ক্ষেত্রে সকল কিছুই আল্লাহ পাবেন (৩৯:৩)। এই জন্য আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে ডেকো না (৭২:১৮)। এতে প্রমাণ হয় নাম ডাকার মধ্যে নিয়তের কোন সুযোগ নাই। এইজন্য রসূল হচ্ছে দেখার বিষয়, রসূল ব্যবস্থাটা সার্বক্ষণিক। বা রসূলের কোন বিকল্প নেই। এই জন্য আল্লাহ বলেন, রসূল না পাঠিয়ে আমি কাউকে শাস্তি দেই না (১৭:১৫)। রসূল তোমাকে পবিত্র করবে (২:১৫১) (৩:১৬৪)। তাই সম্যক গুরুগণকে রসূল বিশ্বাস করেই রসূলের হাতে বায়াত হয়ে ঐ হাত আল্লাহর হাত নিয়ত করে (৪৮:১০) রসূল সুরতে আল্লাহকে সেজদা দিয়ে ইবলিশ থেকে পবিত্র হতে হবে। কারণ ইবলিশ ঐ সেজদার শামিল হবে না (১৫:৩৩)। কাজেই সম্যক গুরুকে রসূল বিশ্বাস করে সেখানে নিয়তের মাধ্যমে যারা আল্লাহকে সেজদা দিচ্ছেনা তারা পবিত্র হতে পারছে না। যেহেতু আল্লাহর সাথে কাউকে ডাকা যাবেনা বিধায় আল্লাহর সাথে রসুলকে ডাকা যাবে না। সেহেতু রসূল সূরতে আল্লাহকেই ডাকতে হবে।

রসূলকে দেখার মাধ্যমেই আল্লাহকে দেখা

আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে রসূলের অনুসরণ কর (৩:৩১)। এই আয়াতে অনুসারে রসূলকে অনুসরণ করা প্রয়োজন, আর রসূলকে অনুসরণ করতে হলে রসূলকে দেখার প্রয়োজন। কারণ অদেখা কোনকিছুকে অনুসরণ করা যায়না। তাই রসূলকে না দেখে তাকে অনুসরণ করা সম্ভব নয়। তাই অনুসরণ কর কথার ভিতরে দেখার কথা নিহিত আছে। যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, তাহলে দেখাগেল রসূলকে অনুসরণ করলে আল্লাহকে অনুসরণ করা হয়। উপরোক্ত যুক্তিতে বলা যায় রসূলকে দেখলে নিয়তের মাধ্যমে আল্লাহকে দেখা হয়। আবার আল্লাহ বলেন রসূলের আনুগত্য করলে আল্লাহকে আনুগত্য করা হয় (৪:৮০)। আর আনুগত্য করতে হলে তাকে উপস্থিতভাবে থেকে দেখা লাগে। যিনি অনুপস্থিত ও অদেখা, তাকে আনুগত্য করা সম্ভব নয়। যেমনটি নবী যখন শেষ হবে, তখন নবীকে দেখা সম্ভব নয়, বিধায় তখন নবীর আনুগত্য করা সম্ভব নয় এই জন্য আল্লাহ কোরআনে নবীর আনুগত্য কর কথা বলে নাই। বরং রসূল উপস্থিত, তাই রসূলের আনুগত্য করতে বলা হয়েছে। এতে প্রমাণ হয় আনুগত্য করা কথার ভিতরে দেখার কথা নিহিত আছে। সেক্ষেত্রে যদি রসূলের আনুগত্য করলে সেই আনুগত্য আল্লাহর হয় উপরোক্ত যুক্তি অনুসারে রসূলকে দেখলে নিয়তের মাধ্যমে আল্লাহকে দেখা হয়। আবার রসূলের কাছে যাওয়া আল্লাহর কাছে যাওয়া (৪৮:১০)। কাজেই কাছে যেতে হলে অবশ্যই তাকে উপস্থিত থেকে দেখার বিষয়। রসূলের কাছে যাওয়া বা বায়াত হওয়া আল্লাহর কাছে বায়াত হওয়া বুঝায়। আর রসুলের কাছে যেতে হলে বা বায়াত হতে হলে যখন সরাসরি তাকে দেখার বিষয় আসে, তাহলে রসূলকে দেখা মানেই নিয়তের মাধ্যমে আল্লাহকে দেখা। আবার রসূলের হাতে হাত রাখা যখন আল্লাহর হাতে হাত রাখা (৪৮:১০) রসূলের হাতের উপর যথন আল্লাহর হাত (৪৮:১০) তাহলে রসূলের পা আল্লাহর পা, ঠিক একই ভাবে রসূলের চেহারা, আল্লাহর চেহারা। কাজেই রসূলকে দেখা মানেই নিয়তের মাধ্যমে আল্লাহকে দেখা। কারণ দেখা কথার ভিতরে নিয়ত করার সুযোগ আছে। তাছাড়া রসূলের সাথে আল্লাহ আছে (৫৭:৪) রসূলের মধ্যে আল্লাহ আছে (৫০:১৬ সূরা ক্বাফ আয়াত নং-১৬)। রসূলের মধ্যে আল্লাহ স্বয়ং সক্রিয় আছে (৮:১৭), রসূল এবং তার অন্তরের কাছাকাছি আল্লাহ অবস্থান করে (৮:২৪) আবার রসূল রূপটা আসছে আদম সূরত থেকে, আদম সূরত আসছে আল্লাহর সূরত থেকে (৮২:৮) (৯৫:৪) (১৯:৩৫) (৩:৫৯) (বিস্তারিত আল্লাহ নিজ সূরতে মানুষ তৈরী অধ্যায় দেখুন এবং মানুষের ভিতরে আল্লাহর অবস্থান অধ্যায়ে বিস্তারিত দেখুন।) কাজেই একথা সত্য যে, রসূল দেখা মানেই নিয়তের মাধ্যমে আল্লাহকে দেখা। আর তাই সম্যকগুরুগণ যাদের জন্য রসূল তারা রসূল সূরতে আল্লাহ দর্শন করেছে। তারা আল্লাহকে স্মরণ করতে পারছে বিধায় তারা আল্লাহর স্মরণে সালাত কায়েম করতে পারছে, আর যাদের জন্য রসূল অদেখা, তাদের জন্য আল্লাহও অদেখা। তারা আল্লাহকে স্মরণ করতে পারছেনা বিধায় সালাতের বিষয়টি তাদের জন্য কঠিন। এজন্য আল্লাহ বলেন, এক শ্রেণীর লোকের জন্য সালাত কঠিন (২:৪৬)।

মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্যগুলো কী

আল্লাহ বলেন মুত্ত্বাকী তারাই যারা গায়েব জগতের ঘটনাবলী বিশ্বাস করে (২ঃ২)। এখানে উল্লেখ্য যে গায়েব জগত বলতে মৃত্যুর পরের জগতকে বুঝানো হয়েছে। আর এ গায়েব জগতের খবর এক আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না (২৭ঃ৬৫)। অনেকেই বলেন নবী মুহাম্মদ (সঃ) গায়েব জানেন কিন্তু নবী মুহাম্মদ (সঃ) ও গায়েব জানে না (৬ঃ৫০),(৭ঃ১৮৮)। এজন্য নবী মুহাম্মদ (সঃ) ওহী ব্যতীত গায়েব জগত সম্পর্কে কাউকে সর্তক করে নাই (২১ঃ৪৫)। যাহা ওহী তাহা কোরআন। নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর উপর নাযিল কৃত কোন ওহী এই কোরানের বাইরে নেই। আর এ কোরআনের ভিতর ওহী ব্যতীত কোন কথা নেই । গায়েব জগত সম্পর্কে বিশ্বাস করতে হলে কোরআন মাফিক গায়েব জগত সম্পর্কে বিশ্বাস করাই মুত্ত্বাকীদের বৈশিষ্ট্য। গায়েব জগত সম্পর্কে কোরানে এসেছে মৃত্যুর পরে পুনরায় নতুন ভাবে সৃষ্টি করা হবে প্রথম বার যে ভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল কর্ম অনুসারে (৭ঃ২৯)। কাফেরদের শাস্তির জন্য আলমে বরযকে তথা জীব জগতে নতুন ভাবে সৃষ্টি করে পাঠানো হবে (২৩ঃ১০০)। যাদের প্রতি আল্লাহ লানত করেছে ও রাগান্বিত হয়েছে তাদের কতকে শুকর কতকে বানর বানানো হবে (৫ঃ৬০)। এ লক্ষ্যে দু ইবা ততোধিক বার জন্ম মৃত্যুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে (৪০ঃ১১), (২ঃ২৮)। (বিস্তারিত জন্মান্তর বাদ ও জন্মের আগে ও মৃত্যুও পরের অধ্যায় দেখুন।) এখানে উল্লেখ্য যে যারা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী নয় তারা গায়েব জগতেও বিশ্বাসী নয়। এ ভাবে জন্মান্তরবাদের পদ্ধতিটা চলবে রোজ কেয়ামতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। তারপর প্রথম সিংঙ্গা ফুক দেওয়ার সময় সমস্ত জীবের মৃত্যু হবে (৩৯ঃ৬৮)। তারপর দ্বিতীয় সিংঙ্গায় ফুক দেওয়া পর্যন্ত নির্জীব অবস্থায় কবরস্থ থাকবে। দ্বিতীয় সিংঙ্গায় ফুক দেওয়ার পরে কবরস্থ দেহে আত্¥া সংযোজন করা হবে (৩৯ঃ৬৮) (৮৭ঃ২১), (৩৬ঃ৫১)। তখন দ্বিতীয় সিংঙ্গায় ফুক দিয়ে দেহে আত্মা সংযোজন করে পুর্নজীবিত হয়ে তারা বলবে আমাদের কে নিদ্রা থেকে কে জাগালো (৩৬ঃ৫১)। তখন তারা রবের দিকে দৌড়াতে থাকবে (৩৬ঃ৫১)। এখানে উল্লেখ্য যে প্রথম সিংঙ্গায় ফুক দেওয়া থেকে দ্বিতীয় সিংঙ্গায় ফুক দেওয়া পর্যন্ত কবর জগত বলা হয়। এটা একটা নির্জীব অবস্থা। এই নির্জীব অবস্থায় কাউকে শাস্তি বা শান্তি কোনটাই দেওয়া সম্ভব নয়। তাই কবরে কোন অবস্থায় শাস্তি বা শান্তি নাই। কবরস্থ পর্য়ায়ে যার যার দেহে তার তার আত্মা সংযোজন করা হবে (৮৭ঃ২১)। তারপর আত্মা সংযোজন হওয়ার পর প্রভুর দিকে ধাবিত হবে পঙ্গ পালের ন্যায়। তখন ইবলিশের ঈমান পরীক্ষার জন্য আল্লাহ মানব সুরত ধারণ করবেন । তখন পায়ের গোছা উন্মক্ত করে পায়ে সেজদা দিতে বলা হবে (৬৮ঃ৪২)। তখন ইবলিশ এবং ইবলিশের অনুসারীরা সেজদা দিতে সক্ষম হবে না (৬৮ঃ৪২)। কারণ যখন তাদের বলা হয়েছিল আদমের নিমিত্তে সেজদা কর (৭ঃ১১)। তখন তারা করে নাই। এজন্য তারা সেজদা দিতে সক্ষম হচ্ছে না (৬৮ঃ৪৩)। ইবলিশ তথা কার্ফির জালিমদের জন্য যে পরীক্ষা সে একই পরীক্ষা মোমিনদের জন্য হবে (৮ঃ২৫)। কাজেই যারা সেরাতুল মুস্তাকীমে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা না দিয়ে মৃত্যুবরণ করবে তারা ইবলিশের অনুসারী হবে বিধায় তারা জাহান্নামী হবে (১৫ঃ৪৩)। এই দিবস আসার পূর্বেই তোমরা প্রভুর আহবানে সাড়া দাও (২৬ঃ৪৭)। অতএব জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী যারা তারাই মোত্তাকি। যারা সালাত কায়েম করে না তারা মুত্ত্বাকী নয়। কারণ সালাত বলতে ্ঐ কাজটাকে বুঝায় যে কাজটা করলে মুনকার নামের শয়তান তানহা হয়ে যায় বা দূরীভ’ত হয়ে যায় বা বিচুর্ণ হয়ে যায় বা মস্তিষ্ক থেকে পৃথক হয়ে যায় (২৯ঃ৪৫)। এখানে উল্লেখ্য যে মুনকার নামের শয়তান তথা ইবলিশ কখনও আদম সেজদার সামিল হবে না (১৫ঃ৩৩)। কারণ ইবলিশ আদম কাবায় সেজদা না দিয়েই কাফের (২ঃ৩৪)। যেহেতু এক সেজদায় সালাত (৪ঃ১০২)। আর তাই মানুষ যখন আদম কাবায় তথা রসুল কাবায় আল্লাহকে সেজদা করে তখন তার মন মস্তিষ্ক থেকে শয়তান দূরীভুত হযে যায়। তাহলে দেখা যাচ্ছে আদম কাবায আল্লাহকে সেজদা দেওয়াই সালাত। তাহলে যারা সম্যকগুরু তথা আদম কাবায় তথা রসুল কাবায় আল্লাহকে সেজদা করে তারাই সালাতী অতএব যারা আদমকাবায় সেজদা করে তারাই মোত্তাকি। রেযেক থেকে দান কর। যারা নিজের আয় রোজগার থেকে ফকির মিশকীনদের দান করে তারাই মুত্ত্বাকী। তাই নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর উপর নাযিলকৃত বিষয়ের বিশ্বাস, পূর্বে নাযিলকৃত বিষয়ের উপর বিশ্বাস এবং আখিরাতের নিশ্চিত বিশ্বাস আছে তারাই মুত্ত্বাকী। ্অতএব যারা কোরআন মাফিক আল্লাহ বিশ্ব্াস, কোরআন মাফিক রসুল বিশ্বাস, কোরআন মাফিক আখিরাত বিশ্বাস করে তারাই মুত্ত্বাকী। উহারাই রবের হেদায়েতের উপর আছে (২ঃ৬)। আর তারাই সফলকাম হবে (২ ঃ ৬) যারা এই বিশ্বাস করে যে আল্লাহর কোন আকৃতি নেই। যেহেতু তাদের এইরূপ বিশ্বাস কোরআনে নেই বিধায় তাদের আল্লাহ বিশ্বাস কোরআন মাফিক নয় বিধায় তারা মোত্তাকি নহে। যারা বলে আল্লাহকে দেখা অসম্ভব। তাদের এই বিশ্বাস কোরান মাফিক নয়। কারণ আল্লাহর সাক্ষাৎ অসম্ভব এমন আয়াত কোরানে নেই। বরং এই জন্যে আল্লাহ বলেন, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকার করেন তাদের কর্মফল বিনষ্ট হবে (১৮ঃ১০৫) অতএব যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকার করে তারা মোত্তাকি নহে। যারা বর্তমান সম্যক গুরুগণকে রসুল বিশ্বাস করে না তারা কোরআন মাফিক রসুল বিশ্বাসী নয় বিধায় তারা মোত্তাকি নয়। আবার পূর্বে নাযিলকৃত বিষয়ে বিশ্বাস বলতে এখানে ইউসুফ (আঃ)কে সেজদা দিয়েছে তারা ১১ ভাই এবং পিতা-মাতা (১২ঃ১০০)। আবার আদমকে সেজদা দিয়েছে ফেরেস্তারা (২ঃ৩৪)। সেই আদম কাবায় সেজদাকে অবৈধ মনে করে যারা ওরা আদমকাবায় সেজদা করে না। উহারা পূর্বে নাযিলকৃত বিষয়ে বিশ্বাসী নয় বিধায় তারা মোত্তাকি নয়। আবার মূছা (আ.) তুর পাহাড়ে স্বরূপের ছদ্মবেশে তাঁর প্রভুকে দর্শন করেছিল। আর এইভাবেই দর্শন দিয়েই আল্লাহ মূছা (আ.) কিতাব দিয়েছিলেন। এই মর্মে আল্লাহ বলেন আমি যে পদ্ধতিতে মূছা (আ.) কিতাব দিয়েছি (সেই পদ্ধতিতে তার সাক্ষাতও দিয়েছি।) অতএব তোমরা মূছা (আ.)-এর সাক্ষাতের বিষয়কে সন্দেহ করিও না (৩২ঃ২৩)। অতএব যারা এইভাবে মূছা (আ.) আল্লাহর সাক্ষাত করেছেন এই বিশ্বাস করে না তারা পূর্বে নাযিলকৃত বিষয়ে বিশ্বাসী নয় বিধায় তারা মোত্তাকি নহে। আবার আখেরাতে আল্লাহ স্বয়ং মানবাকৃতি ধারণ করে পায়ে সেজদা দিয়ে সেদিন মানুষের ঈমান পরীক্ষা করবে (৬৮ঃ৪২)। এখানে যারা আদমকাবায় সেজদা দিবে তারা সেদিন মানবাকৃতি বিশিষ্ট আল্লাহর পায়ে সেজদা দিতে পারবে। আর যারা এখানে আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদাকারী নহে তারা সেদিন আল্লাহর পায়ে সেজদা দিতে পারবে না। (৬৮ঃ৪৩)। এইভাবে ইমান পরীক্ষা করে মানুষকে জান্নাত ও জাহান্নামে দেয়া হবে। এই বিশ্বাসে যারা বিশ্বাসী নয়, তারা আখেরাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী নয়। বিধায় তারা মোত্তাকি নয়।

আল্লাহ স্বরণে নিমগ্ন হওয়া এবং প্রবৃত্তি বা
নফস দমনের উপায় কী

আল্লাহ বলেন যে তোমরা আল্লাহকে স্বরণ কর এবং আল্লাহর স্বরণে একনিষ্ট হয়ে তাতে নিমগ্ন হও (৭৩ ঃ ৮)। এখানে উল্লেখ্য যে মানুষ যখন আল্লাহ স্বরণে সালাতে যায় তখন তার মন মস্তিষ্ক একনিষ্ট হয় না। বিভিন্ন দুনিয়াবী খেয়াল মস্তিষ্কে উদয় হয়। শত চেষ্টা করেও আল্লাহর স্বরণে নিমগ্ন হওয়া সম্ভব হয় না। আবার যখন নির্জনে সমস্ত দুনিয়াবী খেয়াল বর্জন করে আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন হতে চেষ্টা করে তখনও তার ভিতরে বিভিন্ন দুনিয়াবি খেয়াল উদয় হয়। সেক্ষেত্রে বাস্তব প্রমান দেখা যায় যদি মশা একটা কামড় দেয় তখন মশার কামড়ের দিকে নিজের খেয়াল চলে যায় কিংবা একটা জীবজন্তু হঠাৎ করে আক্রমণ করল তখন তার খেয়াল সেদিকে চলে যায়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় বাহ্যিক আবিল্য বা বাহ্যিক খেয়াল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে নাই। বিধায় ধ্যান জগতে আল্লাহ স্বরণে নিমগ্ন হতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে এ রকম উপসানালয়ে গিয়ে প্রভুর স্বরণে ধ্যান জগতে নিমগ্ন হতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ তার ভিতরে ইবলিশ সক্রিয় থেকে তার মনকে বিভিন্নভাবে অস্থির করে রাখে। মানুষিকভাবে আল্লাহ স্বরণে একনিষ্ট হতে পারে না। পক্ষান্তরে মানুষ যখন সম্যকগুরু রসুলকে কেবলা করে আল্লাহকে সেজদা দিয়ে ইবলিশ থেকে মুক্ত হয়ে রসুল সুরতে আল্লাহকে দর্শন করে। তখন সে প্রভুর স্বরণে একনিষ্ঠভাবে নিমগ্ন হতে পারে। অতপর সে তখন প্রভুর প্রেমে আকৃষ্ট হয়ে সেদিকে মনোনিবেশ করে। তখন তার ভিতরে প্রভুর প্রেমময় ভাব উদয় হয়। এভাবে প্রভুর প্রেমে মহিত হয়ে যখন জীবনযাপন করে তখন এক পর্যায়ে সে রসুলসুরতে প্রভুর দর্শন করে তার ভিতরে প্রভুর প্রেম বিচ্ছেদের ভাব উদয় হয়। তখন সে বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে বিচ্ছেদি সামা , গজল , কাওয়ালী ভক্তিমূলক গান ও কীর্ত্তেনের মাধ্যমে তার প্রভুর স্বরণে নিমগ্ন হতে সক্ষম হয়। তখন তার ভিতরে দুনিয়াবী খেয়াল দুরীভ’ত হয়। বাদ্যযন্ত্রের সুললিত ঝঞ্কার ও গানের সুমধুর সুর এবং প্রেম বিচ্ছেদের জ্বালাময় অগ্নি প্রজজ্বলিত হয়ে হৃদয়ের সমস্ত বাহ্যিক আবিল্যেকে দগ্ধিভুত করে দেয়। সে তখন প্রভুর প্রেম জগতে এক অনাবিল আনন্দ হৃদয়েঅনুধাবন করে। এভাবে সে তার প্রভুর স্বরণে একনিষ্ট হয়ে তাতে নিমগ্ন হতে সক্ষম হয়। এভাবে মানুষ যখন রাত্রে এই বাদ্যযন্ত্রসহ প্রেম মজলিশের মাধ্যমে রাত্রে জাগরণ করে তার নফস বা প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন নিশ্চয় রাত্রি জাগরণ প্রবৃত্তি দমনে সহায়ক (৭৩ঃ৬)। তাহলে দেখা যায় যে বাদ্যযন্ত্র সহকারে এশকের মজলিশের মাধ্যমে প্রভুর স্বরনে যতখানি নিমগ্ন হওয়া যায় । অন্য কোন রেয়াজতি আমল দ্বারা সম্ভব নয়। আর এইভাবে বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে প্রভুর প্রেমের মজলিশের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণের মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন থেকে প্রবৃত্তি দমনের উপায়।

কোরআন নির্ভূল

নিশ্চয় এই কোরআন সম্মানিত রসুলের আনীত বাণী (৮১:১৯)। আর সেই সম্মানিত রসূল হচ্ছে জীব্রাইল ফেরেস্তা। কারণ জীব্রাইল ফেরেস্তা নবী মোহাম্মদ (স:) এর নিকট ওহী নিয়ে এসেছে (২:৯৭)। আর আল্লাহ যখন কোন ফেরেস্তাকে জমিনে রসূল করে পাঠান তখন তাকে মানব রূপেই পাঠান (৬:৯)। যেমনভাবে লুত সম্প্রদায়ের নিকট ফেরেস্তা মানব রূপে এসেছিল (১৫:৬১) (১৫:৬২)। এখানে উল্লেখ্য যে, নিরাকারে দৈব বাণীতে যদি জীব্রাইল ফেরেস্তা ওহী নাযিল করত তাহলে ইবলিশ নিরাকারে দৈব বাণীতে জীব্রাইলের পরিচয় দিয়ে নবী (স:) কে প্রবঞ্চিত করে কোরআনের মধ্যে ইবলিশের কথা ঢুকাতে সক্ষম হত। কারণ ইবলিশ তো নিরাকারে দৈব বাণীতে জিব্রাইলের পরিচয় দিয়ে কথা বলতে সক্ষম। কিংবা পর্দার আড়ালে থেকে যদি জীব্রাইল ফেরেশতা ওহী নাযিল করত তাও ইবলিশ পর্দার আড়ালে থেকে একইভাবে নবী (স:) এক প্রবঞ্চিত করে কোরআনের মধ্যে ইবলিশের কথা ঢুকাতে সক্ষম হতো। ইবলিশ নিশ্চয় জীব্রাইল সম্পর্কে নবী (স:)কে প্রবঞ্চিত করতে সক্ষম, কারণ ইবলিশতো আল্লাহ সম্পর্কেও মানুষকে প্রবঞ্চিত করতে সক্ষম (৩১:৩৩)। কারণ জীব্রাইল তো আল্লাহ থেকে বেশি ক্ষমতাবান নয়। তাই এই কোরআনের মধ্যে ইবলিশের অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য জিব্রাইল মানব রূপ ধারণ করে নবী (স:)-কে সেজদা দিলেন তখন নবী (সা.) নিশ্চিত হলেন যে, তিনি ইবলিশ নহে। কারণ ইবলিশ তো আমাকে সেজদা করবে না। তাই জীবব্রাইল ফেরেশতা মানবরূপ ধারণ করে নবী (সা.)কে সেজদার মাধ্যমে ওহী নাযিল করেছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। ইবলিশ নিজেকে জিব্রাইলের পরিচয় দিয়ে নবী (স:)কে সেজদার মাধ্যমে তাকে প্রবঞ্চিত করতে পারবে না। কারণ ইবলিশতো কখনও আদম সেজদার সামিল হবেনা। (১৫:৩৩)। কারণ ইবলিশতো আদমকে সেজদা না করেই কাফের (২:৩৪)। এখানে উল্লেখ্য যে, যে জিব্রাইল ফেরেস্তা আদম (আ:)কে সেজদা দিয়েছে, (২:৩৪) এতে প্রমাণ হয় নবী আদম (আ:) জিব্রাইল ফেরেস্তার কাছে সেজদার যোগ্য ছিল। তাহলে অবশ্যই নবী মুহাম্মদ (স:) জিব্রাইলের কাছে সেজদার যোগ্য। কারণ নবীদের ভিতরে কোন পার্থক্য নাই (২:১৩৬)। তাই যতবার জিব্রাইল ওহী নিয়ে এসেছে ততবারই মানব রূপ ধারণ করে নবী (স:)কে সেজদা দিয়েই ওহী নাযিল করেছে। আর এইভাবে ইবলিশ থেকে আল্লাহ ওহীকে হেফাজত করেন (১৫:১৭)। ফলে এই কোরআনের মধ্যে ইবলিশের কথার অনুপ্রবেশ ঘটে নাই। তাই এই কোরআনের মধ্যে কোন সন্দেহ নাই (২:১), তাই কুরআন নির্ভুল।

তুর পাহাড়ে মুসা (আ:) এর কাছে স্বয়ং আল্লাহ অথচ হেরা গুহায় জীব্রাইল কেন?

হেরা গুহায় জীব্রাইল ফেরেস্তা এসে মানব রূপ ধারণ করে নবী (স:)কে সেজদার মাধ্যমে ওহী নাযিল করার পর, একদা নবী (স:) তার সাহাবীদেরকে নিয়ে বসে আছেন, এমন সময় জীব্রাইল ফেরেস্তা মানব রূপ ধারণ করে নবী (স:)কে সেজদার মাধ্যমে ওহী নাযিল করলেন। তার পরবর্তী সময়ে সাহাবীরা নবী (স:) এর কাছে জানতে চাইল, এই মানুষটি কে? যিনি আপনাকে সেজদা দিল? যেমনটি ভাবে প্রশ্ন করেছিল লুত পরিবারের কাছে যখন ফেরেস্তা মানব রূপে এসেছিল (১৫:৬১) (১৫:৬২)। আল্লাহ যখন কোন ফেরেস্তাকে জমিনে রসূল করে পাঠান তখন তাকে মানব রূপেই পাঠান (৬:৯)। তখন নবী (স:) সাহাবাদেরকে বলনে ইনি জীব্রাইল ফেরেস্তা। তখন সাহাবীরা বললেন আত্মীকভাবে তিনি ফেরেস্তা হলেও দেহগত ভাবে বা আকৃতিগত ভাবে তো মানুষ। তাহলে প্রকাশে একজন মানুষ যখন আপনাকে সেজদার মাধ্যমে আপনার কাছে মাথানত করছে, তাহলে আমরা কি জীব্রাইলের সাথে, আপনাকে সেজদার মাধ্যমে, আপনার কাছে মাথানত করতে পারবো না? তখন আয়াত নাযিল হইল, মাথানতকারীর সাথে তোমরাও মাথানত কর (২:৪৩)। তখন সাহাবীরা জীব্রাইলের সাথে নবী মুহাম্মদ (স:)-কে সেজদার মাধ্যমে মাথানত করল। যেমনভাবে ইউসুফ নবীকে সেজদা দিয়েছিল তার ১১ ভাই ও পিতা-মাতা (১২:১০০)। যেমন ভাবে সেজদা দিয়েছিল ফেরেশতারা আদমকে (২.৩৪) (১৫:২৯) (৩৮:৭২)। যদি সাহিবারা ঐ সময় নবী (সা.)কে সেজদা না দিত তাহলে সুরা বাকারার ৪৩নং আয়াতটি অমান্যকারী বলে গণ্য হতো। যেহেতু সাহাবিরা কোনো আয়াত অমান্যকারী নহে তাহরে ঐ সময় উক্ত আয়াতটি নাযিল হওয়ার পরপরই সাহাবিরা জিব্রাইলের সাথে নবী (সা.)কে সেজদার মাধ্যমে তার কাছে মাথানত করেছিল এটা নিশ্চিত। এখানে উল্লেখ্য যে, জীব্রাইল ফেরেস্তার ন্যায় ঐ সেজদা মানুষের জন্য প্রযোজ্য নয় এমন আয়াত নাযিল না হয়ে ঐ প্রেক্ষাপটে মাথানতকারীর সাথে মাথানত কর, আয়াত নাযিল হয়েছে বিধায় মানুষের জন্য ঐ সেজদা প্রযোজ্য নয় এমন কথার কোন ভিত্তি নাই। এই বিষয়ে নবী (সা.)-এর জীবনী ইতিহাস আসছে ইবনে খোযায়মা ইবনে সাদিত (রা:) তার চাচা আবু খোযায়মা (রা:) হতে বর্ণনা করেন যে, ঘুমন্ত ব্যক্তি যেভাবে স্বপ্ন দেখে তিনি অনুরূপ স্বপ্ন দেখিলেন যে, তিনি নবী (স:) এর কপালে সেজদা করছেন। তখন নবী (স:) কে কথাটি বর্ণনা করা হলে তিনি বললেন, তুমি তোমার স্বপ্নটিকে বাস্তবায়ন কর, এই বলে তিনি চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লেন, অতঃপর ঐ সাহাবী (আবু খোযায়মা) নবী (স:) এর কপালে সেজদা করলেন। শরহে সুন্নাহ হাদীস প্রসঙ্গে আবু বাকরাহ বর্ণিত হাদীস। (মেশকাত শরীফ স্বপ্ন অধ্যায়, পৃ: নং- ৬৭৭, হাদীস নং-৪৩০০) যেহেতু ইবলিশ আদমকে সেজদা না দিয়েই কাফের (২:৩৪) তাই যারা নবীকে সেজদা করে নাই তারা ইবলিশের অনুসারী। এই সেজদার বিষয়ে আল্লাহ মানুষকে বলেন, সাবধান! তোমরা ইবলিশের অনুসরণ করোনা, সেজদা কর এবং আমার নিকটবর্তী হয়ে যাও” (৯৬:১৯) এখানে উল্লেখ্য যে, ইবলিশতো আল্লাহকে সেজদা করে (১৩:১৫) কিন্তু সে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করে না (১৫:৩৩)। যে সেজদা ইবলিশ করেনা সেই সেজদা করেই আল্লার নিকটবর্তী হওয়ার জন্য সুরা আলাকের ১৯নং আয়াতে বলা হয়েছে। আর এই সেজদা এই জন্য জরুরী যে, যেদিন আল্লাহ মানব আকৃতিতে প্রকাশিত হয়ে পা উন্মোচন করে পায়ে সেজদা দিতে বলবে (৬৮:৪২)। আর তখন তারা সেজদা দিতে পারবে না (৬৮:৪২)। কারণ তারা নিরাপদ থাকা অবস্থায় এই সেজদা (আদম কাবায় আল্লাহকে) করে নাই (৬৮:৪৩)। আর আদম কাবায় সেজদার মাধ্যমে ইবলিশের ইমান পরীক্ষা করবে এইজন্য যে, ইবলিশতো আদম সেজদা না দিয়েই কাফের (২:৩৪), তাই তাকে দোযখে দিতে হলে এই পরীক্ষা ছাড়া অন্য কোন ভাবে ঈমান পরীক্ষায় ফেল করানো সম্ভব নহে। বি. দ্র. বিস্তারিত ২য় খ-ের ১০৮ পৃষ্ঠায় দেখুন। এই জন্য আল্লাহ সেদিন মানব আকৃতি ধারণ করে পা উন্মোচন করে সেজদা দিতে বলবে আর ইবলিশ তখন মানবাকৃতি বিশিষ্ট আল্লাহর পায়ে সেজদা দিতে না পেরে ফেল করে দোযখে যাবে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে সকলকে ইবলিশের ন্যায় একই পরীক্ষা করা হবে (৮:২৫)। আর আল্লাহ তো এটা জানতেন যে, ইবলিশকে তিনি জান্নাতে দিবেন না, আবার নবী (সা.) এর সাহাবাদিগকে দোযখে দিবেন না, আবার আল্লাহ অন্যায় বিচারও করবেন না (১৫:৭৫)। তাই নবী (সা.)-এর সাহাবীরা যাহাতে নবী (সা.)কে সেজদা করে, সেই লক্ষে জিব্রাইলকে মানব রূপ ধারণ করে হেরা গুহায় পাঠালেন। যেন জিব্রাইল নবী (সা.) কে সেজদা করার মাধ্যমে, আদম সেজদার উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আর জিব্রাইলের দেখাদেখি নবী (সঃ) এর সাহাবীরা নবী (সা.)কে সেজদা দেওয়ার অভ্যস্ত অর্জন করবেন, যেন সেদিন মানব আকৃতি বিশিষ্ট আল্লাহর পায়ে সেজদা দিয়েই নবী (সা.) এর সকল সাহাবারা ঈমান পরীক্ষায় পাশ করে জান্নাতি হতে পারেন। ন্যায় বিচারের মাধ্যমে ইবলিশকে দোযখে দেওয়া এবং নবী (সা.)-এর সাহাবীদেরকে জান্নাতে দেওয়ার লক্ষ্যে হেরা গুহায় আল্লাহ নিজে না এসে জিব্রাইল পাঠিয়ে মানব আকৃতি ধারণ করে সেজদার মাধ্যমে ওহী নাযিল করেন।

এজিদী অনুসারীদের পরিচয় কী ও তাদের চেনার উপায় কী?

যেহেতু কারবালার যুদ্ধে হযরত হোসেন (আ:)কে হত্যার মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামের বিপরীত একটি ইসলাম চালু করা হইল আর সেটা এজিদী ইসলাম বলে খ্যাত। আর এজিদ তো হোসেনি তথা মোহাম্মদী ইসলামের গ-ি থেকে বেরিয়ে জাহান্নামি দল বলে গণ্য হইল (৪০:৪৩)। কারণ এজিদ ঐ সময়ে হোসেন বিদ্বেষী হয়ে হোসেনের বেশ-ভূষনের পরিবর্তন ঘটানোর লক্ষ্যে নবী (সা.) এর ক্ষেত্রে আল্লাহর দেওয়া সুন্নত হিসাবে চুল দাড়ি গোফ রাখা প্রযোজ্য থাকা সত্ত্বেও এজিদ ও তার অনুসারীরা চুল ও গোঁফ কর্তন করে হোসেনের বিপরীত একটি বেশ চালু করার জন্য টুপি, পাগড়ি, লম্বা জুব্বা পরিধান করার মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামের পরিবর্তন ঘটায়। কেননা টুপি, পাগড়ি, লম্বা জুব্বা ইসলামী পোশাক মর্মে কোরআনে কোনো আয়াত নেই বিধায় এটা নবী (সা.) এর পোশাক নহে এটা নিশ্চিত। কারণ তিনি অহি ব্যতীত কোনো কিছু অনুসরণ করেন নাই (৬ ঃ ৫০)। তাই তিনি পোশাকের বিষয়ে অহি অনুসরণ করেছেন। পোশাকের বিষয়ে আল্লাহ বলেন, নির্ভরযোগ্য, শক্ত ও মজবুত পোশাকই উত্তম পোশাক (৭ ঃ ২৬) (বিস্তারিত ২য় খ-ের ৩৭ পৃষ্ঠা দেখুন)। আর এজিদের রেখে যাওয়া দ্বীনটাই বর্তমান পর্যন্ত চালু আছে। কারবালায় মুহাম্মদী ইসলামের পরিবর্তনের পর আর কোন পরিবর্তন ইসলামের মধ্যে ঘটে নাই। সেই থেকে ইসলামের মধ্যে এজিদ এমন অনেক বিষয়গুলি ঢুকিয়েছে যা কোরআনে নাই। এই বিষয়ে কিতাবীদেরকে আল্লাহ সতর্ক করে বলেন, ‘হে কিতাবীগণ! দ্বীনের মধ্যে সত্যের বিপরীতে কোন কিছু প্রবেশ করাইও না (৫:৭৭)। এই আয়াতটি অমান্য করে এজিদ দ্বীনের ভিতরে এমন অনেক বিষয় ঢুকিয়েছে যাহা কোরআনে নাই। এই বিষয়ে আল্লাহ সতর্ক করে বলেন, তাদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে আল্লাহর নামে (দ্বীন বলে) চালিয়ে দেয় (২:৭৯)। এখানে উল্লেখ্য যে, বর্তমানে প্রচলিত ইসলামের ভিতরে যে বিষয়গুলি প্রচলিত আছে অথচ কোরআনে নেই সেই বিষয়গুলি কারবালার পর থেকে এজিদ (৫:৭৭) এই আয়াতটি অমান্য করে (২:৭৯) এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে নিজ হাতে কিতাব রচনা করে দ্বীন বলে চালিয়ে দিয়েছে। সেই থেকে বর্তমান পর্যন্ত এজিদের দ্বারা ইসলামের ভিতর প্রবিষ্ট বেদাত বিষয়গুলি চলে আসছে। সেগুলো কোরআনের মাধ্যমে আলাদা করে তাহা বর্জন করা দরকার। যেমন, কোরআনে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার বিষয়টি উল্লেখ আছে, অথচ প্রচলিত এজিদী ধর্মে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার নিয়ম নেই। তাহলে বলা যায়, আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা না করার বিষয়টি এজিদ থেকে চালু হয়েছে। আর তাই বর্তমানে যারা আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করেনা তারা এজিদের অনুসারী। কাজেই আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার মাধ্যমে এজিদের বিপরীত দল হোসাইনের দলভুক্ত হতে হবে। যেহেতু টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা এই গুলি ইসলামী পোষাক এই মর্মে কোরআনে কোন আয়াত নেই, অথচ এইগুলি কারবালার পর থেকে হোসেনের বিপরীত বেশ ধারণ করার জন্য এজিদ থেকে চালু হয়েছে। তাই যারা টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিধান করে তারা এজিদের অনুসারী। তবু যদি বলা হয় টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা আরব দেশীয় পোষাক, তাহলেতো এইগুলি কাফেরেরও পোষাক বটে। কারণ তৎকালীন সময়ে সৌদী আরবেতো কাফেরও ছিল। যেমন আবু যাহেলতো কাফের ছিল, আর আবু যাহেলের পোষাকটিও এমনই ছিল, তাহলে আমি যদি কাফির হিসাবে আবু যাহেলকে ঘৃণা করি, তাহলে তার পোষাক লম্বা জুব্বাকেও ঘৃণা করা লাগে। আবার এজিদ এবং তার অনুসারী যারা হোসেনকে হত্যা করল, আর তাই এজিদকে যদি আমরা ঘৃণা করি- তাহলে তারা যে টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিধান করেছে তাদের সেইগুলো ঘৃনা করা লাগে। যেহেতু টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা এজিদের অনুসারীদের পোশাক চেনার উপায় হচ্ছে যারা টুপী, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিধান করে তারা এজিদের অনুসারি, তাই এইগুলি পরিহার করে এজিদের বিপরীতে হোসাইনের দলভুক্ত হইতে হয়। যেহেতু আমাদের গোঁফ আল্লার দেওয়া সুন্নত, যেটা প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে (৪৮:২৩) আর অতীত রসূলদের ক্ষেত্রেও গোঁফ আল্লাহর দেওয়া সুন্নত হিসাবে চলিয়া আসিতেছে। আর এটা পরিবর্তন করা যাবে না। (১৭:৭৭)। আর গোঁফ কর্তন করার বিষয়টাও কোরআনে উল্লেখ নাই, বা গোঁফ রাখা হারাম এই মর্মে কোরআনে কোন আয়াত নাই (বিস্তারিত ২য় খ-ের ১০৬ পৃষ্ঠায়)। তাহলে গোঁফ কর্তন করার বিষয়টা হোসেনের বিপরীত বেশ ধারণের জন্য এজিদ কারবালার পর থেকে চালু করেছে। তাই যারা গোঁফ কর্তন করে তারা এজিদের অনুসারী। এজিদকে যদি ঘৃণা করি তাহলে গোঁফ কর্তন করার বিষয়টাও ঘৃণা করা লাগে। তাই গোঁফ কর্তনের বিষয়টি পরিত্যাগ করে অর্থাৎ গোঁফ কর্তন না করে হোসেনের দলভূক্ত হওয়া দরকার। (বিস্তারিত ১ম খ-ের ১২৮ পৃষ্ঠায় দেখুন)। যেহেতু হজ্বের সময় ব্যতীত চুল কর্তনের কোন আয়াত কোরআনে নেই অথচ প্রচলিত ধর্মের মধ্যে অহেতুক ভাবে নিয়মিত চুল কর্তনের বিষয়টা চলে আসছে। এতে প্রমাণ হয় এজিদ হোসেনের বিপরীত বেশ হিসাবে চুল কর্তন করিত। তাই এজিদকে যদি ঘৃণা করি তাহলে চুল কর্তন করার বিষয়টাও ঘৃণা করা লাগে। তাই চুল কর্তন না করে হোসেনের দলভূক্ত হওয়া দরকার। এজিদের দ্বারা ইসলামের ভিতর প্রবিষ্ট বেদাত বিষয়গুলি চলে আসছে। সেগুলো কোরআনের মাধ্যমে আলাদা করে তাহা বর্জন করা দরকার। সেই বিষয়গুলির বিস্তারিত বিবরণ ২য় খন্ডের ৮২ পৃ. থেকে ৯৬ পৃ. দ্র:। তাই সম্যক গুরু রসূলের কাছে বায়েত গ্রহণ করে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার মাধ্যমে টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিত্যাগ করে চুল দাড়ি গোঁফ কর্তন না করে হোসেনের দলভূক্ত হওয়া দরকার। যখন আপনি হোসেনের দলভুক্ত হবেন তখন আপনি নবী (স:) এর সাফায়াৎ পাবেন, তখনই আপনি জান্নাতে যাবেন।

মাথানতকারী দলের সাথে থেকে মাথানত করা

যেহেতু জিব্রাইল ফেরেস্তা মানব রূপ ধারণ করে নবী (সঃ)কে সেজদা দিয়ে মাথানত করার মাধ্যমে হেরা গুহা থেকে মুহাম্মদী ইসলাম শুরু। আর হযরত আলীকে যখন রেসালাত দেওয়া হয় তখন সকলেই হযরত আলীর কাছে মাথানত করল, তারই ধারাবাহিকতায় হযরত হোসাইন (আ:)কে যখন রেসালাত দেওয়া হইল তখন এজিদ এবং তার অনুসারীরা হোসেনের কাছে মাথানত করল না। সেই থেকে এজিদ ও তার অনুসারীরা মাথানত না করার দল হিসাবে পরিচিত। আর এজিদ তো হোসেনি তথা মোহাম্মদী ইসলামের গ-ি থেকে বেরিয়ে জাহান্নামি দল বলে গণ্য হইল (৪০:৪৩)। আর হোসেনের কাছে যারা মাথনত করল, তারা মাথানতকারী দল হিসাবে পরিচিত। তারই ধারাবাহিকতায় সম্যক গুরুগণের কাছে আদম কাবায় সেজদার মাধ্যমে মাথানত করে টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিত্যাগ করে চুল, দাঁড়ি, গোফা কর্তন না করে যারা মাথানত করার দল হিসাবে পরিচিত। মূলত তারাই হোসেনের দল হিসাবে পরিচিত। এখানে উল্লেখ্য যে, কারবালার পর থেকে হোসেনের পরাজয়ের পরে যারা হোসেনের পক্ষ অবস্থান নিলো, তাদেরকে প্রকাশ্যে কতল করা হইল। যেমনটি ভাবে হোসাইন এবং তার অনুসারীদেরকে কতল করেছিল, তাই তখন সকলে এজিদের ভয়ে হোসেনের বেশ পরিবর্তন করে এজিদের বেশ টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিধান করে, চুল ও গোঁফ কর্তন করে এজিদের জাহান্নামি দলের সাথে মিশে গেল । এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ বলেন, তোমরা মাথানতকারীর সাথে মাথানত কর (২:৪৩)। তাই এই আয়াত অনুসারে মাথানতকারীর দলের সাথে থেকে তাদের কাছে মাথানত করা দরকার। তাই যারা এজিদী দল পরিত্যাগ করে সম্যক গুরুগণের কাছে বায়াত গ্রহণ করে আদম কাবায় সেজদার মাধ্যমে মাথানত করে টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিত্যাগ করে চুল, দাঁড়ি, গোফ কর্তন না করে হোসাইন দলভুক্ত হইল তারা মাথানতকারী দলের সাথে থেকে মাথানতকারী বলে গণ্য। আর কেহ এমনটি না করে এজিদী জাহান্নামি দলের সাথেই থেকে গেল, তাহলে সে সুরা বাকারার ৪৩ নং আয়াতটি অমান্যকারী। যেহেতু এজিদী দল মাথানতকারী দল বলে গণ্য নহে, কারণ এজিদ হোসাইনের কাছে মাথানত করেনাই সেই থেকে বতমান প্রচলিত দলটি মাথানত না করার দল। আর তাই আপনাকে প্রচলিত এজিদী জাহান্নামি দল থেকে বেরিয়ে এসে মাথানতকারী দলের সাথে থেকে সম্যক গুরুর কাছে বায়াত গ্রহণ করে আদমকাবায় সেজদা দিয়ে মাথানত করে সূরা বাকারার ৪৩ নং আতায়টি পালন করতে হবে।

আল্লাহকে সাহায্য করার উপায় কি?

যেহেতু এজিদ হোসেনের কাছে মাথানত না করে মাথানত না করার একটি দল চালু করল আর এজিদ তো হোসেনি তথা মোহাম্মদী ইসলামের গ-ি থেকে বেরিয়ে জাহান্নামি দল বলে গণ্য হইল (৪০:৪৩)। আর সেই দলটি বর্তমান প্রচলিত ইসলাম। আমরা যদি প্রচলিত ইসলামের অনুকরণে চলি, তাহলে এজিদী ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করা হয়। সেক্ষেত্রে হোসাইনের দলের বিপরীত দলের সাথে থেকে কাফের দলকে সাহায্য করার শামিল হয়। কারণ এজিদ হোসেনের কাছে মাথানত না করে কাফের, তাই যদি আমরা আল্লাহকে সাহায্য করতে চাই তাহলে নবীর অনুসারী দল তথা হোসাইনের দলকে সাহায্য করতে হবে। আর হোসাইনের দলকে সাহায্য করতে হলে এজিদের দলের বিপরীত হতে হবে। আর এজিদের দলের বিপরীত হতে হলে পূর্বের বর্ণনা অনুযায়ী সম্যক গুরুগণের কাছে বায়াত হয়ে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার মাধ্যমে মাথানত করে টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিত্যাগ করে চুল, দাঁড়ি, গোফ কর্তন না করে হোসাইন দলের সাথে থাকা দরকার। যখন আপনি এইভাবে হোসেনের দলের সাথে থাকবেন, তখন হোসাইন দলের সাহায্য করা হবে, আর হোসাইন দলকে সাহায্য করা মানেই আল্লাহকে সাহায্য করা। এইভাবে আপনি যখন আল্লাহকে সাহায্য করবেন তখন আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন। আল্লাহ বলেন, তুমি আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করবেন (৪৭:৭)। তাই এজিদী জাহান্নামি দল থেকে বেরিয়ে এসে সম্যক গুরু রসুলের কাছে বায়াত হয়ে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার মাধ্যমে মাথানত করে টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিত্যাগ করে চুল, দাঁড়ি, গোফ কর্তন না করে হোসাইন দলভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে সাহায্য করে সুরা মুহাম্মদের ৭ নং আয়াতটি পালন করা দরকার। আর যারা এমনটি না করে এজিদী জাহান্নামি দলের অনুসরণেই থেকে গেল তারা হোসেনের দলকে সাহায্য না করার কারণে সুরা মুহাম্মদের ৭ নং আয়াতটির অমান্যকারী হিসাবে গণ্য হলো।

একমাত্র ক্ষমা প্রাপ্তির আশায় এজিদের বিপরীত বেশ ধারণ করতে হবে

সেদিন আল্লাহর দয়া ক্ষমা ছাড়া কেহ মহা শাস্তি থেকে রেহাই পাবেনা (২৪:১৪)। আর নবী (স:) এর অনুসারী ছাড়া কেহ ক্ষমা পাবে না (৩:৩১)। যেহেতু কারবালার পর থেকে ইসলামের মধ্যে দুইটি দলে ভাগ হয়ে গেল। একটি হোসেনের কাছে মাথানত করার দল যেটা হোসাইনের দল, অপরটি হচ্ছে হোসেনের কাছে মাথানত না করার দল যেটা এজিদের জাহান্নামি দল। আর এজিদ তো হোসেনি তথা মোহাম্মদী ইসলামের গ-ি থেকে বেরিয়ে জাহান্নামি দল বলে গণ্য হইল (৪০:৪৩)। তাই কারবালার প্রান্তরে হোসাইনের শহীদ হওয়ার পর থেকে হোসাইনের দলের সাথে মাথানতকারী দলভুক্ত না হলে কেহ নবী (স:) এর সাফায়াৎ পাবে না, তাই হোসেনের দলভুক্ত হতে হবে। আর হোসাইনের দলভূক্ত হতে হলে এজিদী দলের বিপরীত হতে হবে, যেহেতু কারবালার পর থেকে এজিদী ধর্ম প্রতিষ্ঠিত আর পরবর্তী সময়ে এজিদী ধর্মের কোন পরিবর্তন ঘটেনি, তাহলে বর্তমান প্রচলিত ইসলামটাই এজিদী ইসলাম এতে কোন সন্দেহ নাই। তাই এজিদী দলের বিপরীত হতে পারলেই হোসাইনের দলভুক্ত হওয়া যাবে। তাই এজিদী দল থেকে বেরিয়ে এসে সম্যক গুরু রসুলের কাছে বায়াত হয়ে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার মাধ্যমে মাথানত করে টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিত্যাগ করে চুল, দাঁড়ি, গোঁফ কর্তন না করে হোসাইন দলভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। যখন আপনি হোসেনের দলভুক্ত হলেন তখন আপনি নবী (স:) এর সাফায়াৎ পাবেন। আর তখনই আপনি ক্ষমার আওতাভুক্ত হবেন। আর তখনই আপনার পাপের পাল্লা হালকা হবে এবং নেকীর পাল্লা ভারী হবে। ফলে আপনি আমলনামা ডান হাতে পাবেন। তখন জান্নাতে যাবেন। তাই এজিদী জাহান্নামি দল থেকে বেরিয়ে এসে সম্যক গুরু রসুলের কাছে বায়াত হয়ে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার মাধ্যমে মাথানত করে টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিত্যাগ করে চুল, দাঁড়ি, গোঁফ কর্তন না করে হোসেনের দলভুক্ত না হয়ে যতই ইবাদত বন্দেগী করেন আল্লাহ পাকের দয়া ও ক্ষমার অধিকারী হতে পারবেন না। আর আল্লাহর দয়া ক্ষমা ছাড়া কেহ মহা শাস্তি থেকে রেহাই পাবেনা (২৪:১৪)। তাই একমাত্র ক্ষমা পাওয়ার আশায় এজিদী দল থেকে বেরিয়ে এসে হোসেনী দলভুক্ত হতে হবে।

মোমিন ব্যতীত সকল সৎ কর্ম বিনষ্ট হবে

এখানে উল্লেখ্য যে, এখন যদি কেহ এমনটি বলে যে, একমাত্র সম্যক গুরু রসুলের কাছে বায়াত হয়ে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার মাধ্যমে মাথানত করে টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিত্যাগ করে চুল, দাঁড়ি, গোঁফ কর্তন না করে যদি জান্নাতে যাওয়া যায়, তা হলে সৎ কর্মের বিষয়টা কেমন, আবার সত্যের উপদেশ দেওয়ার বিষয়টি কেমন? বা ধৈর্য্য ধারণের বিষয়টি কেমন? আর সেটা এইভাবে যে, যখন আপনি আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা দিবেন তখন আপনার ভিতর থেকে ইবলিশ দূরীভূত হবে ফলে শয়তানের বৈশিষ্ট যেটা অহংকার, আপনার ভেতরে থেকে দূরীভুত হবে, তখন আপনার ভিতর থেকে অসৎ কর্মদূরীভুত হবে এবং আপনি সৎ কর্মশীল হবেন। আর আপনি যখন টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিত্যাগ করে চুল, দাঁড়ি, গোঁফ কর্তন না করে সাধুর বেশ ধারণ করে তখন আপনি সামাজিকভাবে একজন সৎ ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত হবেন, তখন আর আপনি অসৎ কর্ম করতে পারবেন না। আপনি তখন নিজে মিথ্যা বর্জন করবেন, তখনই আপনি সত্যের উপদেশ দিতে পারবেন। যদি আপনি নিজে সৎ এবং সত্যবাদী না হয়ে অন্যকে সত্যের উপদেশ দিতে পারবেন না। তাহলে সৎকর্মশীল ও সত্যবাদী হওয়ার বিষয়টি উপরোক্ত বেশ ধারণের সাথে সম্পৃক্ত। তেমনি ভাবে ধৈর্য্য ধারণের বিষয়টিও উপরোক্ত বেশ ধারণের সাথে সম্পৃক্ত। কারণ প্রচলিত সমাজের অধিকাংশ মানুষ থেকে তখন আপনি আলাদা হবেন, তখন তারা আপনাকে এড়িয়ে যাবে, আপনাকে ঘৃনা করবে, আপনাকে তিরস্কার করবে। আর এই সময়ে আপনার ধৈয্যের বিষয়টিও পরীক্ষা হবে। তাই আল্লাহ বলেন, ঈমান অর্জন করা, সৎ কর্ম করা, সত্যের উপদেশ দেওয়া ও ধৈর্য্য ধারণ ব্যতীত সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে (১০৩:৩)। তাই ঈমানের সাথে সৎ কর্ম, সত্যের উপদেশ দেওয়া ও ধৈর্য্য ধারণ করতে হলে এজিদী দল থেকে বেরিয়ে এসে সম্যক গুরু রসুলের কাছে বায়াত হয়ে আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার মাধ্যমে মাথানত করে টুপি, পাগড়ী, লম্বা জুব্বা পরিত্যাগ করে চুল, দাঁড়ি, গোঁফ কর্তন না করে হোসাইনী বেশ ধারণ প্রয়োজন। এজিদ তো হোসেনি তথা মোহাম্মদী ইসলামের গ-ি থেকে বেরিয়ে জাহান্নামি দল বলে গণ্য হইল (৪০:৪৩)। আর যারা এমনটি না করে এজিদী জাহান্নামি দলের অনুসরণেই থেকে গেল তাহা সূরা আছরের উল্লেখিত আয়াত অনুসারে সৎ কর্ম করার পরে মোমিনের দলভুক্ত মোমিন না হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

মোমিনের দলভুক্ত হওয়ার উপায় কী?

এজিদ তো হোসেনি তথা মোহাম্মদী ইসলামের গ-ি থেকে বেরিয়ে জাহান্নামি দল বলে গণ্য হইল (৪০:৪৩)। এজিদি জাহান্নামি দল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সম্যকগুরু রসুলের কাছে বায়েত গ্রহণ করে আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা করে মাথানতকারী দলের সাথে থেকে, টুপি, পাগড়ী ও লম্বা জুব্বা পরিহার করে, চুল-দাড়ি-গোঁফ কর্তন না করে জয়গুরু বলে এজিদের অনুসারী দল থেকে বেরিয়ে এসে হোসেনের দলভুক্ত হয়ে নবী (সা.) অনুসারী হয়ে আল্লাহপাকের কাছ থেকে ঈমানের অনুমতি লাভ করে মোমিনের দলভুক্ত হতে হবে। কারণ আল্লাহর অনুমতি ব্যতিত কাহারোও মোমিন হওয়ার সাধ্য নহে (১০:১০০)। তাই উপরোক্তভাবে নিজেকে হোসাইনের দলভুক্ত করার মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এই জন্য আল্লাহ বলেন, পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মুসলমানের দলে দাখিল হও (২:২০৮)।়।

পবিত্র কোরআন থেকে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা

(২য় খন্ড)